Posted in

পেঁয়াজে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জের কৃষকরা

মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ॥

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বরটিয়া এলাকার প্রবীণ কৃষক আজিজ খাঁর ৬ সদস্যের পরিবার। ৩ বিঘা জমির ফসলই তাদের দু’মুঠো খেয়ে বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। তুলনামূলক নিচু জমিতে বছরের বাকি সময় অন্যান্য ফসল খুব একটা ভালো হয় না তাঁর। অপেক্ষায় থাকেন, পেঁয়াজের মওসুমের। কারণ এই পেঁয়াজ আবাদেই তিনি ঘরে তুলতে পারেন একসাথে বেশ কিছু টাকা। তা দিয়েই কোনরকম কেটে যায় সংসার। গত বছর নিজের ৩ বিঘা আর অন্যের এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজ আবাদ করে পেয়েছিলেন আশাতীত উপার্জনমাত্রা। এবারও চোখে সেই স্বপ্নের ঝলকানি। ২ ছেলে আর ৩ জন কৃষি মজুর নিয়ে পুরো উদ্যোমে নেমে পড়েছেন জমিতে। পরম যতনে করছেন পরিচর্যা। যেন পেঁয়াজ নয়, নরম মাটিতে বোনা একেকটি স্বপ্ন। শুধু কৃষক আজিজ খাঁ-ই নয়, পেঁয়াজ আবাদে যেন মনের একটা কাঙ্খিত স্বপ্নে বিভোর মানিকগঞ্জের হাজারো কৃষক।
Manikganj pic-1
পেঁয়াজ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মানিকগঞ্জের পেঁয়াজ চাষীরা। গত বছরের চাইতে জেলায় এবছর পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে কয়েকগুণ। অনুকূল আবহাওয়া আর ফলন ভালো হলে আর্থিক লাভের আশা করছেন স্থানীয় চাষীর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছর প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়। যা গতবারের চাইতে অনেক বেশি।

ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের কৃষক মো. মুন্নাফ মোল্লা জানান, চলতি বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। ৩ বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো। ফলন ভালো হলে এবছর তিনি পেঁয়াজ থেকে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

শিবালয় উপজেলার বুতনী এলাকার চাষী মোরতোজ আলী জানান, গত বছর তিনি ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। গতবার ভালো দাম পাওয়ায় এবছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বাড়িয়েছেন। একই গ্রামের কৃষক অজিত সরকার জানান, তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ শিবালয়ের বরঙ্গাইল হাট থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। রাস্তা ঘাট আগের চেয়ে ভালো তাই পরিবহনে তেমন অসুবিধা হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলীমুজ্জামান মিয়া জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফসল চাষে জেলার চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। তাছাড়া জেলার উৎপাদিত এসব পেঁয়াজেরও বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.