Posted in

অচাষকৃত উদ্ভিদ চিনলেই গাছ আর না চিনলেই ঘাস

তানোর রাজশাহী থেকে মো. জাহিদ আলী

সম্প্রতি তানোর পৌরসভা মডেল হাই স্কুলে ‘অচাষকৃত উদ্ভিদের গুনাগুন সম্পর্কে জানি ও সংরক্ষণে ভুমিকা রাখি’ শীর্ষক পাঠশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারসিক’র সহায়তার ৩২ ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদের সনাক্তকরণ ও এর গুনাগুণ নিয়ে পাঠশালাটি আয়োজিত হয়। পাঠশালাটি পরিচালনা করেন তানোর উপজেলার গোকুল মথূরা গ্রামের কৃষাণী নিভারানী এবং পাঠশালাটির উদ্ভোধন করেন সহকারী শিক্ষক আব্দুল বারী।

DSC00556
পাঠশালায় অচাষকৃত উদ্ভিদের ব্যবহার এর সনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অচাষকৃত প্রতিটি উদ্ভিদের নমুনা এক একটি করে শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন এলাকার অভিজ্ঞ কৃষাণ ও কৃষাণীরা। উদ্ভিদের নাম কি এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চান আগত অসংখ্য মানুষ। অচাষকৃত উদ্ভিদ এর যে নমুনা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন যেগুলোর মধ্যে ছিল লইটাখুরা, বাসপাতারি, লুনটা, বনপাট, শানচি, থানকুনি, ডরপি, ব্যানা বেড়াল, খাটো ব্যাড়াল, পিপল, উলট কম্বল, মিসরীদানা, পটকা, আমরুল, বাওইজোড়া, চামঘাস, গাদা পূর্নিমা, কাটাখুরা, কন্ঠা ঝুমকা, জোয়ানবিড়, তেলাকুচা, শ্বেতগাদা, প্রভান্ড, কাল কাসিন্দা, কচু, ডোল, দাদগাছ, গাইখুড়া, ফটপাত, গিমা ইত্যাদি। প্রতিটি গাছের নাম শিক্ষাথীর কাছে জানার পর তিনি সেই গাছেল প্রকৃত নাম ও ব্যবহার সম্পর্কে বর্ণনা দেন অভিজ্ঞজনরা। প্রকারভেদে প্রতিটি গাছের কোন অংশ শাক হিসাবে খাওয়া হয়, কোন অংশ ঔষধি হিসেবে ব্যবহ্নত হয় এবং কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণমুলক এই পাঠশালায় প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

DSC00540
শিক্ষাথী লিজা আক্তার বলেন, “আজকের এই পাঠশালার মাধ্যমে অনেক গাছ নিজে চিনতাম কিন্তু নাম জানতাম না, সেগুলো জানা হলো”। সে আরও বলল, “আমি নিজে এই গাছগুলো সংরক্ষণ করব এবং ব্যবহার সম্পর্কে অন্যদের জানাবো”।
শিক্ষার্থী ইহসানুল করিম মিলন বলেন, “আমি উলট কম্বল এই গাছটির নাম শুনেছিলাম কিন্তু কখনো দেখিনি। আজ দেখার সৌভাগ্য হলো এবং এর গুনাগুণ সম্পর্কেও জানতে পারলাম”।

তানোর পৌরসভা মডেল হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুর বারী আরও বলেন, “অচাষকৃত গাছ চিনলেই গাছ, আর না চিনলে ঘাস বা জঙ্গল। অচাষকৃত এই সব গাছকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের এই গাছগুলোকে চিনতে হবে এর গুনাগুণ জানতে হবে এবং আগামী প্রজন্মকে এই গাছ সম্পর্কে জানাতে হবে যারা এটি সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করবে”।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.