Posted in

কুড়িয়ে পাওয়া শাকের রান্না প্রতিযোগিতা

সাতক্ষীরা থেকে মারুফ হোসেন মিলন

প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া প্রকৃতির গাছ-গাছড়া, শাক, লতা, গুল্ম, ফল, মূল ও উদ্ভিদ প্রভৃতি অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গতকাল গাবুরা ইউনিয়নের খলিশাবুনিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদের বাড়িতে স্থানীয় চকবারা মানব কল্যাণ জেলে বাওয়ালী কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে ও বারসিক সহযোগিতায় কুড়িয়ে পাওয়া অচাষকৃত শাকের স্বাদ গ্রহণ ও রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

রান্না প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১০ জন নারী। প্রত্যেক নারী একটি করে সবজি/খাবার রান্না করেন। ১০ রকমের (আদাবরুণ, সেঞ্চি শাক, বাতোশাক, কলমী শাক, মাটিফোড়া, তেতুলের টক, কলার থোড়, সজিনার পাতা, থানকুনি, তেলাকচু,) কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না করেন। যে সমস্ত শাক প্রতিযোগিতায় রান্না করা হয় তা এ সকল নারীরা বাড়ির আঙিনা, খাল-বিল, জলাশয় থেকে নিজেরা কুড়িয়ে আনেন।

27292811_1698436923553180_1240317784_n

গ্রামীণ এক উৎসবমুখর পরিবেশে কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল খাদ্য রান্না ও স্বাদ গ্রহণ কর্মসূচি। ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিল স্থানীয় ইউপি সদস্য, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, কৃষি অফিসার, কৃষক-কৃষাণী, উন্নয়ন কর্মী এবং স্থানীয় জনগণ। নির্ধারিত সময়ে রান্না শেষে চলে স্বাদ গ্রহণ কর্মসূচি। রান্না প্রতিযোতিায় বৈচিত্র্যময় খাবার এর স্বাদ গ্রহণ করেন সকল বিচারিক। ১০ জন নারীর (শাহিদা, ফতেমা, বকুল, শাহিদা, খালেদা, রোকেয়া, ফরিদা, রেশমা, শাহিদা, নাছিমা) প্রত্যেকেই তার নিজ হাতে রান্নার তরকারিটি প্রত্যেক বিচারকদের পাতে পরিবেশন করেন।

27294499_1698436970219842_1904124334_n

নারীরা তাদের রান্নার প্রধান উপকরণ কুড়িয়ে পাওয়া শাক/তরকারী সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সকল বিচারককের বিবেচনায় তেতুলের টক রান্না করে ১ম স্থান অধিকার করেছেন রোকেয়া বেগম, শাহিদা বেগম কলমী শাক রান্না করে ২য় হয়েছেন এবং তেলাকচু শাক রান্না করে ৩য় হয়েছেন শাহিদা বেগম। নতুন প্রজন্মের মাঝে আগ্রহ মনোযোগ সৃষ্টিতে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্রামীণ নারীর অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী সকল গ্রামীণ নারীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

27394410_1698471576883048_1747677035_n

কুড়িয়ে পাওয়া শাক রান্না প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি সদস্য আব্দুল রাজ্জাক, ওয়ার্র্ড আওয়ামীলেিগর সভাপতি শেখ আইযুব আলী, শিক্ষক মজিবর শেখ, কৃষক সিরাজুল ইসলাম, ডাক্তার আমিনুল রহমান মুকুল, শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার, সাংবাদিক আল ইমরান ও বারসিক কর্মকর্তা পার্থ সারথী পাল প্রমুখ। কুড়িয়ে পাওয়া অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্য সনাক্তকরণ, শ্রেণীকরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বিকাশের জন্য নতুন প্রজন্মের সাথে গ্রামীণ নারীদের সেতুবন্ধন তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন ও প্রচারণা গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে স্থানীয় জনগণ মত প্রকাশ করেন এবং প্রসারে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.