Posted in

নতুন সবুজে এক অন্যরকম শ্যানগরের গাবুরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে গাজী আল ইমরান

সবুজের জন্য নানারকম কর্মসূচি চলছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ খ্যাত গাবুরা ইউনিয়নে। ভয়ংকর আইলার ছোবলে সবুজ নামক দৃশ্যটি হারিয়ে ফেলেছিল গাবুরার মানুষ। চারিদিকে ছিলো ধু-ধু মরুভূমি। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিবছর দেশের প্রতিটি উপজেলার ন্যায় এই ইউনিয়নে বৃক্ষমেলা থেকে বৃক্ষ ক্রয় করে মানুষ গাছ লাগাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। মানুষ গাছের প্রতি এখন অনেক আন্তরিক।

20171018_082333
বিশ্বের আবহাওয়াবিদদের মতে, গত আইলার করাল ছোবল থেকে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট অনেকটা রক্ষা করেছে। ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকার ক্ষতি কিছুটা কম হলেও মানুষসহ প্রাণবৈচিত্র্য হারা হয়েছিলো গাবুরা। যদি এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট না থাকত তাহলে আইলা ও সিডরে যে ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে আরো ২০ গুণ বেশি ক্ষতি হতো।
গাছ আমাদের বিপদের বন্ধু, গাছবিহীন স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন। জীবনে-মরণে গাছের প্রয়োজন। ফুল, ফল, কাঠ, জ্বালানি, ছায়া আমরা গাছ থেকে পেয়ে থাকি। গাছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বাড়ায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা করে। ভারসাম্য বজায় রাখে। আবহমান বাংলার চিরচেনা শস্য-শ্যামল সবুজে ঘেরা ছায়া পথ ছিলো। গত কয়েক দিন আগে গাবুরায় পা রেখে এখানে নতুনভাবে জন্মানো গাছগুলো দেখে মনটা শান্তিতে ভরে উঠল। গাছগুলোতে একটু আলতো ছোঁয়া দেয়ার চেষ্টা করলাম। শরীর আনন্দে নেচে উঠল। অনেক সময় ধরে সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

20180206_105131
গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালির দেশ বাংলাদেশ। গাছ লাগানো এখন অনেক মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে এখানে রাস্তার ধার বাঁধের পাশে গাছ লাগানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক বাড়ির মালিক তার বাস্তু ভিটার ওপর শাক-সবজি, ফুল-ফল ছাড়াও দেশি-বিদেশি গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন। এটা সত্যি আনন্দের বিষয়। দ্বীপ খ্যাত গাবুরায় বৃক্ষরোপণ অনেক বেড়েছে। এতে করে বেড়েছে সবুজায়নের মাত্রাও। যার ফলে তাপমাত্রা হ্রাস ও পরিবেশ রক্ষায় অনেক সহায়ক হচ্ছে। আমরা সকলেই সে জন্য এই সুন্দর কাজের সুদূরপ্রসারী অগ্রযাত্রায় আশাবাদী। সারাদেশের ন্যায় প্রতিবছর এখানে এখন বৃক্ষমেলা হয়। বৃক্ষমেলার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ অনেকাংশে বেড়ে গেছে বলে জানান, গাবুরা চকবারা মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সিদ্দিকুল ইসলাম। এখানকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছোট ছেলেমেয়েরাও গাছ কিনে রোপণ করে তাদের অভ্যাসকে প্রতিষ্ঠিত করছে। নিঃসন্দেহে এটা শুভ উদ্যোগ।

এখানকার স্থানীয় মুরব্বিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মানুষ বেইমানি করলেও গাছ কখনো মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে না। সে প্রতিনিয়ত মানুষের সেবা দিয়েই যায়। বাতাস, ফুল, ফল ইত্যাদি আমাদের অনেক উপকার করে থাকে। পরিশেষে আনাচে কানাচে সবুজে ভরে উঠুক। সবুজ বেষ্টনীতে পরিণত হোক গাবুরা ইউনিয়ন এই কামনা করি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

2 thoughts on “নতুন সবুজে এক অন্যরকম শ্যানগরের গাবুরা”

  1. দারুণ লিখেছেন ইমরান ভাই। সিডর ও আইলা বারবার আমি দেখে এসেছি গাবুরা মাথা নোয়ায়নি। বারবার লড়াই করেছে। টিকে থাকবার লড়াই। দারুণভাবে টিকে থেকেছে। এটি টিকে থাকার আরো একটি লড়াই। একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখার জন্য আপনার কিন্তু দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। গাবুরার কোথায় কোথায় এবং কারা কারা কি কি গাছ কেন লাগাচ্ছেন এবং সেখানে সিডর ও আইলার সময় কি কি হয়েছিল এসব নিয়ে লিখুননা আরো একটি বিস্তারিত লেখা। আর আশা করবো বারবার আপডেট হবে গাবুরার সবুজায়ন।

    1. শ্রদ্ধেয় দাদা,অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার ক্ষুদ্র লেখাটি আপনার কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে।এ জন্য আমি খুবই আনন্দিত। আপনার কমেন্টের মাধ্যমে আমার মধ্যে অনুপ্রেরণা বেড়েছে।আমি অবশ্যই গাবুরার সবুজায়ন নিয়ে আরো বেশী তথ্য নিয়ে লেখার চেষ্টা করব।আশির্বাদ কামনা রইলো।

Comments are closed.