Posted in

কৃষকের ভালো কৃষকরাই জানেন

রাজশাহী থেকে জাহিদ আলী

বরেন্দ্র অঞ্চলের তীব্র দাবদাহে আসমানের বৃষ্টি ও জমিনের পানি ছাড়া কোন ফসল হয় না এটা সবারই জানা। শস্য ফসল থেকে শুরু করে সবজি সব কিছুতেই নির্ভর করতে হয় পানির জন্য। তারপরও মাটির গুনাগুন ও তাপ সহ্য করে যে সবজি ফসলটি বরেন্দ্র অঞ্চলের বাড়ির টিনে বা শস্য ফসলের মাচায় শোভা পায় তা হলো কুমড়া। এই কুমড়াটি বসতবাড়ির চালে বেশির ভাগ কৃষাণী আবাদ করে। তাই এর নাম চাল কুমড়া।। অনেকে এটিকে চুন কুমড়াও বলেন। দৈনিন্দিন পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ করে এ সবজি। এছাড়া এ সবজি দিয়ে তৈরি মোরব্বা, পায়েস, কুমড়া বড়ি তৈরি করা যায়, যা খেতে খুবই সুস্বাদু। চাল কুমড়া চাষ করার জন্য লাগে না কোন বীজের যোগান, লাগে না কোন কৃষি অফিসের পরামর্শ। কৃষক-কৃষাণীরা নিজের তাগিদেই এর বীজ সংগ্রহ করেন, সময় মত জমিতে রোপণ ও পরিচর্যা করতে পারেন। এছাড়া তাঁরা সবজির জন্য ফল কাটেন, মোরব্বার বা বড়ির জন্য ফল রেখে দেন এবং পরবর্তী বছরের জন্য বীজ সংরক্ষণ করেন।

img_4577
এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় গোগ্রাম ইউনিয়নের লালদিঘী গ্রামের বাসিন্দা ববিতা বেগম (৩৮) বলেন, “আমি প্রতিবছরই কুমড়ার চাষ করি। এবার ৪টি গাছ লাগিয়েছিলাম। ৪টি গাছ থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ২০টি লাউ নিজে খেয়েছি, ৮-১০টি আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে দিয়েছি এবং প্রায় এক হাজার টাকার মত লাউ বিক্রি করেছি। এখনও গাছে যেগুলো আছে সেগুলো বড়ির দেওয়ার জন্য রেখেছি।” তিলিবাড়ী গ্রামের কৃষাণী রাজিয়া সুলতানা (৪২) বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর যাবৎ চাল কুমড়ার চাষ করি। কুমড়ার পাতা ডগা ফুল সবকিছুই খাওয়া যায়। বাড়িতে কমুড়া খাওয়া, কাচা বিক্রি ছাড়া যেগুলো বড় হয় সেগুলো বড়ির পুড় করার জন্য রেখে দিই। একেকটি বড়ির পুড় ১০০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতিবছর বড়ির পুড়ের টাকা দিয়ে সংসারের কাজে লাগানো যায়।”

img_4574
কৃষক মুঞ্জুর আলী (৬০) জানান, জৈষ্ঠ্য মাসের শেষে বা আষাঢ় মাসের প্রথমে তারা চাল কুমড়ার বীজ জমিতে লাগান। বীজ লাগানোর ৬০-৭০ দিন পর থেকেই কুমড়া খাওয়া যায়। কাঁচা কুমড়া প্রথমে দাম বেশি পাওয়া যায়। পরে বড় কুমড়াগুলো মোরব্বা বা বড়ির পুড় হিসেবে বিক্রি করা যায়। কুমড়ার পুর কেজি হিসেবেও বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ১০-১২ টাকা দরে বিক্রি হয়। কৃষাণী আলেয়া বেগম (৩৫) জানান, গ্রামে প্রত্যেক বাড়িতেই কুমড়ার গাছ আছে। তাঁর বাড়ির চালেও এখন ৮টি কুমড়া আছে। কিছু কুমড়া বিক্রি করেছেন, খেয়েছেন এবং বড় কুমড়ার বীজগুলো সামনের বছরের জন্য রেখে দেবেন বলে তিনি জানান।

কৃষক তার কৃষি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার মধ্যে চলমান রেখেছেন। কোন ফসলে তিনি লাভবান হবেন তার হিসাব নিকাশ তিনি তার অভিজ্ঞতা দিয়েই করে থাকেন। এর জন্য কোন পরামর্শকের হয় না;  প্রয়োজন হয় না কারও উপর মুখোপেক্ষী হবার। তাই কৃষককে অনভিজ্ঞ বলা মুর্খতার সামিল।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.