সাম্প্রতিক পোস্ট

ডাবের পানি দূর করে ক্লান্তি ও গ্লানি

ডাবের পানি দূর করে ক্লান্তি ও গ্লানি

 মানিকগঞ্জ থেকে এম আর লিটন 

যে কয়টি সহজলভ্য ফল রয়েছে তার মধ্যে ডাব একটি। প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা মেটানোর ডাবের পানি দূর করে গ্লানি। কচি নারিকেলকে ডাব বলে। ডাবের পানি হলো কচি ডাবের ভেতরকার রস। ডাব পেকে নারিকেল হবার সাথে সাথে ডাবের পানি কমে যায়, আর তার জায়গায় নারিকেলের শাঁস ভেতরে জমা হয়। ডাবের বৈজ্ঞানিক নাম:(Cocos nucifera)। ডাবের পানি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে নিরক্ষীয় অঞ্চল, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ, এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া (যেমন বাংলাদেশ, ভারত) ও মধ্য আমেরিকার অনেক দেশে (যেমন কোস্টারিকা ও পানামায়) রাস্তার পাশে বিক্রেতারা আস্ত ডাব বিক্রি করে। দা দিয়ে ডাবের মুখটি কেটে টাটকা ডাবের পানি বিক্রি করা হয়। ডাবের বাইরের সবুজ খোসা সরিয়ে বাকি অংশকে অনেক সময় প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বেচা হয়। আমাদের দেশে একটি ডাব ২০ থেক ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয় ।

02 (1)
ডাবে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবে খাদ্য-আঁশের পরিমাণ ১.০৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৭১ গ্রাম, চিনি বা শর্করা ২.৪ গ্রাম এবং প্রোটিনের পরিমাণ ০.৭১ গ্রাম । প্রতি ১০০ গ্রাম ডাবের পানিতে জলীয় অংশ ৯৫ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ০.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৩ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৫ মিলিগাম, ফসফরাস ০.০১ মিলি গ্রাম, আয়রন ০.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১-০.১১ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি ২ ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলি গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৩ কিলোক্যালরি।’ প্রতি ১০০ গ্রাম ডাবের পানি থেকে ১৯১৭ কিলোক্যালরি পাওয়া যায় যা মানবদেহে শক্তি যোগায়। ডাবের পানির ফ্যাট থেকে প্রাপ্ত শক্তির পরিমাণ ১.৬৭ কিলোক্যালরি। এতে মোট ০.২১ গ্রাম ফ্যাট থাকে। ডাবের পানিতে সম্পৃক্ত ফ্যাটের পরিমাণ ০.১৭ গ্রাম।

01 (1)
ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও নানা রকম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, যা অনেক জটিল রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। যেমন, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজম সমস্যা দূর করে, ওজন কমাতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কিডনির সমস্যা দূরে রাখে ও ত্বকের সুরক্ষা করে। সকালে খালি পেটে, কাজের আগে ও পরে, খাওয়ার আগে ও পরে এবং ঘুমানো আগে ডাবের পানি খাওয়া উপকারী ।

গরমে ছোট-বড় সবারই দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে ত্বকে ফুটে ওঠে লালচে কালো ভাব। ডাবের পানি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরকে রাখে ঠান্ডা। তারুণ্য ধরে রাখতে এর অবদান অপরিহার্য।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: