Posted in

একুশ-এর চেতনায় এগিয়ে যাবে তরুণরা

মানিকগঞ্জ ঘিওর থেকে পংকজ পাল

স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম
স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, ঘিওর স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বারসিক ঘিওর অঞ্চলের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ে এই টিমটি গঠিত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু তেরশ্রী। এ অঞ্চলটি আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলটির সংস্কৃতির ধারা অব্যাহত রাখতে বারসিক শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য বিভাগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আত্মপ্রত্যয়ী এবং সৃষ্টিশীল। এই শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীল কাজে অংশগ্রহণ করেছে। দেয়ালিকা প্রকাশ, পাঠচক্র, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ নিয়ে কুইজ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মূখী করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ নানাবিধ কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত এই টিম। এই টিমের ১৫ জন সদস্য রয়েছে। যারা নিয়মিতই একই সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত ভালো কিছু করার উদ্যোগেই এই সংগঠনের সৃষ্টি। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নিজেদের সংগঠিত করার লক্ষে তারা নিয়মিতই আলোচনা করেন, বসেন এবং কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। নিজেদের উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে ও সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণে তাদের এই সংগঠিত হওয়া।

21 (1)
স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের উদ্যোগে ২১ উদ্যাপন
টিমের সদস্যরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ২১ উদ্যাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের উদ্যোগে ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরী, পুষ্প অর্পণ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি ফুল সংগ্রহ এবং ফুলের তোড়া তৈরি করা হয়। সদস্যবৃন্দ ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতে ফুলের তোড়াটি নিয়ে খালি পায়ে প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার সাথে পুষ্প অর্পনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের গভীর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। প্রভাতফেরী শেষে যার যার বাড়ি ফিরে যান। সূচি অনুযায়ী বিকালে ২য় পর্বে ছিল ২১ নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি ও গান অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বের অতিথিবৃন্দকে আগেই জানানো হয়েছিল। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কবি আঃ সাত্তারকে এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেরশ্রী গণকেন্দ্র পাঠাগার ট্রাস্ট যুব কমিটির সহ-সভাপতি রাজিব কর এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল। উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের সকল সদস্যবৃন্দ। অতিথিবৃন্দ ২১ নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের আলোচনায় ভাষা আন্দোলনে তেরশ্রী অঞ্চলের জড়িত সকল সংগ্রামীদের অবদান ও ত্যাগের নানাদিক উঠে আসে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এলাকার কৃতী সন্তানদের অবদান জানতে পারেন।

২১ উদ্যাপনে তহবিল সংগ্রহ
যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য চাই অর্থ-কম কিংবা বেশি। স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যও অর্থের প্রয়োজন হয়। তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্যও অর্থের প্রয়োজন হয়। তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বারসিক অনেক সময় সহায়কের ভূমিকা পালন করেন। তবে ২১ উদ্যাপন ছিল সম্পূর্ণই আলাদা। টিমের সদস্যবৃন্দ এক-দুই দিনের টিফিনের টাকা থেকে কেউবা হাত খরচের টাকা থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। আবার যারা টাকা দিতে পারেনি তারা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছেন। এভাবে যার যার সাধ্যমত অর্থ সংগ্রহ কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

21 (2)
সলিডারিটি টিমের স্বপ্ন
টিমের সদস্যবৃন্দ চান শিক্ষার্থীদের তাদের সাধ্যমত সহায়তা প্রদান করতে। পাশাপাশি নানাবিধ সৃজনশীল কর্মকান্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে। শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা, দক্ষতা বৃদ্ধিতে কর্মসূিচ গ্রহণের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ, নারী পুরুষ সমতা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়া, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা করা, বিভিন্ন দিবস ও ঋতু নিয়ে দেয়ালিকা প্রকাশ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে এই টিমের তরুণ সদস্যরা। এসব কর্মসূচি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার জন্য সদস্যবৃন্দ প্রতি মাসে একবার করে বসেন। কোন কোন মাসে দুইবারও বসেন।

উপসংহার
আজকের তরুণই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই সকল উদ্যমী তরুণরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে। এছাড়া এসব সামাজিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে তাদের ভূমিকা কি হবে সেটাও তারা উপলদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে তারাও যে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে সেটা তারা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। এভাবে একদিন এই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বড় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। তরুণরা সম্ভবনাময়ী ওরা উদ্যমী, এরা সাহসী। তরুণদের প্রাণশক্তির কাছে সব বাধা বালির বাধের মত ভেসে যাবে। ওদের জয় হবেই। ২১ উদ্যাপনের মাধ্যমে ওরা যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সাহস দেখিয়েছে, এতে এদের নেতৃত্বেরও বিকাশ হয়েছে। বড়রা যদি ওদের পাশে থাকে তাহলে ওরা আরও বড় কিছু করতে পারবে। সঠিক অনুপ্রেরণা পেলে সেদিন আর বেশি দূরে নয়- যেদিন ওরা আমাদের এই অপার সম্ভনাময় দেশটাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.