সাম্প্রতিক পোস্ট

পরিবেশ রক্ষায় আমাদের যুব সমাজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান

পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা এবং আমাদের পৃথিবীকে বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপি ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ পালিত হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশও সচেতনতার লক্ষ্যে দিনটি প্রতিবছর পালন করা হয়। প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দিবসটি পালন হয়ে থাকে। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হচ্ছে “বাস্তুত‌ন্ত্র পুনরুদ্ধার” (Ecosystem restoration)।

এ বছর দিবসটি যখন পালিত হচ্ছে তখন সারা দুনিয়ার মানুষ করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করছে নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য। তারপরও বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো নানা আয়োজনে দিবসটি খুব গুরুত্বের সাথে পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ছাত্র ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘ, বড় কালিয়াকৈর পল্লী উন্নয় যুবক সমিতি, বাংগালা নব-কৃষক কৃষাণি সংগঠন, কাস্তা বারোওয়ারি কৃষক কৃষাণি সংগঠন, সোলাই রাজবংশী উন্নয়ন সংগঠন এর সাথে যৌথভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মাস ব্যাপি ফলজ, বনজ, ওষুধি, বট, পাকইড়, কৃষ্ণচূড়া, বৃক্ষ ও দেশীয় আমের বীজ রোপণ কর্মসূচি আয়োজনে সহায়তা করে।

বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনায় পরিবেশ দূষণের কারণ ও করণীয় তুলে ধরেন বক্তারা, নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করেন। ছাত্র ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। অর্থাৎ গাছপালা, খাল বিল নদী নালা, সাগর, মাটি, পানি, বায়ু সবকিছুই পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। আর পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমার তাকে পরিবেশ দূষণ বলি। পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ মানুষের জীবন ও অস্তিত্বের পক্ষে সহায়ক। নির্মল বাতাস, বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত খাদ্য সুস্থ ও সুন্দরভাবে মানুষকে বাঁচাতে সহায়তা করে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ও মানুষের লাগামহীন দূষণমূলক কর্মের ফলে প্রতিনিয়তই ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। যেই পরিবেশ মানুষকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে নিজের সবটুকু দিয়ে লালন পালন করছে এই সমাজের মানুষকে, অন্যদিকে সেই মানুষগুলোই নির্মমভাবে, নির্বিচারে ধ্বংস করছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। ফলে প্রকৃতি দিন দিন ব্যাপক ভয়ানক রূপ ধারণ করছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে অনেক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল, সুনামি, খরা প্রভৃতির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের হার বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বেড়েই চলেছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা যে কারণে তলিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো।

তাছাড়া নদী ভরাটনো দূষণের ফলে জলজ প্রাণীগুলোর বিলুপ্ত হচ্ছে। জলজ প্রাণী রক্ষায় নদীর দূষণ বন্ধ করে নদী খনেনের উদ্যোগ নিতে হবে। ছাত্র ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘের পরিবেশ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক নাঈম হোসেন বলেন, প্রকৃতির কাছে আমারা চির ঋণী। এই ঋণের দায় আমাদেরই। আমাদের টিকে থাকার পরিবেশ আমাদের কেই সংরক্ষণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের যুব সমাজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের রোপণকৃত গাছ আমারাই যত্ন করবো। এ আমরাই এর পরিচর্যা করবো। আমাদের এই কর্মসূচী মাসব্যাপি চলমান থাকবে। পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, কল কারখানার কালো ধোয়া বায়ু দূষণ করছে। বায়ুদূষণের ফলে দূষিত বায়ু প্রবেশ করে শ্বাসনালীকে বিষাক্ত করছে। ফলে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধী তৈরি হচ্ছে। হুমকীর মুখে পড়ছে জন স্বাস্থ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হলে কলকারাখানার কালো ধোয়া নির্গত বন্ধ করতে হবে। মূলত পরিবেশের এই উপাদানগুলোর সুষম ব্যবহারই পারে পরিবেশকে দুষণ মুক্ত রাখতে আর পরিবেশ দুষণ রোধ হলেই প্রকৃতি আবার তার সতেজ রূপ ফিরে পাবে।

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিরাজ হোসেন বলেন, বিভিন্ন প্রয়োজনের তাগিদে গাছপালা কেটে ফেলছে। সেখানে তৈরি করা হচ্ছে ঘর-বাড়ি। গড়ে তুলা হচ্ছে নগরায়ন। একটি দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছপালা কম থাকলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়। শুরু হয় অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কোন দেশে মোট ভূমির পরিমাণের শতকরা পঁচিশ ভাগ বনভূমি থাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে সে আনুপাতিক হারে বনভূমি নেই। সে পরিমাণ বনভূমি বা বৃক্ষ না থাকায় বায়ু মন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দিন দিন বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বেড়ে চলেছে। এভাবে বিষাক্ত গ্যাস নির্গতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে বায়ুমন্ডলীয় স্তর দূষিত হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ক্রমশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্যতা বজায় না থাকলে সুস্থ পরিবেশ বজায় থাকে না। পরিবেশ রক্ষা করতে হলে প্রকৃতির সাথে পারস্পারিক সম্পর্ক স্বীকার করে সকলের মধ্যে দায়িত্ব বোধ তৈরি করতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি আসমান বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ মানুষ পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে চায়। তাই বিশ্বকে বস বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে দূষণমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।পরিবেশ দূষণ হয় এমন কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কৃষিতে রাসায়নিক সার বিষ পরিহার করে জৈব কৃষি বৃদ্ধি করতে হবে। আবাসস্থল তৈরির নামে অবাধে গাছ কর্তন বন্ধ করে বেশি বেশি পরিবেশ বান্ধব গাছ লাগাতে হবে।

উক্ত বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি আসমান, বড় কালিয়াকৈর পল্লী উন্নয়ন যুবক সমিতির সভাপতি মোঃ ইংরাজ আলী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ হায়দার আলী (তারা) মৎসজিবী হারান রাজবংশী, কৃষক সংগঠনের সদস্য প্রদীপ মন্ডল, মহাদেব মন্ডল,স্বপন রায়, সুভাষ মন্ডল, বলধারা ইউনিয়ন সাংস্কৃতিক দলের সদস্য মোঃ বাবুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি শামিম আহমেদ আহমেদ, ছাত্র ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘের পরিবেশ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক নাঈম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন, ফাহাদ, মহোন, রনি, নয়ন ও সংগঠনের অন্যন্য সদস্য বৃন্দ।

বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীতে পরিবেশ দিবসের ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান। উল্লেখ্য মাসব্যাপি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ব্রী-কালিয়াকৈর বরুন্ডি রাস্তায় ৩৫০টি দেশীয় আমের বীজ, ১০টি দেশীয়জাম, ডেউয়া, নুনাফল, কদবেল, অর্জুন, নিম, বটের চারা রোপণ করা হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: