সাম্প্রতিক পোস্ট

বাবা ও আমার প্রিয় নদীর কথকতা

ঢাকা থেকে কাজী সুফিয়া আখ্তার

শিশুকালে ছড়ার মাধ্যমে প্রথম যে-নদীর সাথে পরিচয় হয় সেটি ছিল ‘ক্ষীর’ নদী। ‘খোকা যাবে মাছ ধরতে ক্ষীর নদীর কুলে’। তখন জানতাম না কোথায় কুলকুল করে বয়ে চলে ক্ষীর নদী। বর্ষায় তার রূপ খর বায়ূর প্রাবল্যে কেমন হয়! আজ জানি, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ও গাজীপুরে ক্ষীর নদী প্রবাহমান ছিল। আজো আছে ক্ষীণ ধারায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আমাদের ছোট নদী’ খুব আনন্দের সাথে ছন্দে ছন্দে দুলে দুলে পড়তাম। বড় হতে হতে দেখলাম বাংলাদেশের অনেক নদীতেই ‘বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে/পার হয়ে যায় গরু,পার হয় গাড়ি’। এ- যেন নিজ গাঁয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাম জানা না জানা চিরচেনা নদীগুলোর কথাই সকলের হয়ে সকলের হৃদয়ের আবেগ ধারণ করে কবি লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথের লেখায় প্রায় বারো শ’ নদীর উল্লেখ মেলে। হিমালয়ের পাদদেশে উৎপন্ন গঙ্গা অনেক নগর, মাঠ, প্রান্তর ভেঙে রাজশাহী জেলাতে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করে প্রবাহিত হয় বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায়। আপন মনে ছড়ায় তার শাখা, উপশাখা।

বিদ্যার সাগর, আঠারো শতকের সমাজসংস্কারক, মাতৃভক্তঈশ্বর চন্দ্র শর্মা মায়ের ডাকে বাড়ি গিয়েছিলেন ঘনঘোর বৃষ্টির রাতে ঝড়ো হাওয়ায় উন্মত্ত দমোদর নদী সাঁতরিয়ে পার হয়েছিলেন। এই গল্প শুনেছি মায়ের মুখে। বইতে পড়েছি আরো পরে। দমোদর নদী দেখার ইচ্ছে নিয়ে বেড়ে উঠি। নিজ দেশের নদীর প্রতি একটু একটু করে ভালোবাসা জন্মে। রেডিওতে আব্দুল আলীমের কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে গান শুনি‘ রূপালি নদীরে রূপ দেইখ্যা তোর হইয়াছি পাগল’। স্কুলের পাঠ্য বইয়ে কবি আহসান হাবীব এর কবিতায় ‘মেঘনা’ নদী ও মেঘনা পাড়ের ছেলে এবং নেয়ে’র কথা জানলাম। জানলাম মেঘনার জল ভরা বুকে তার হেসে খেলে বেড়ানোর কথা। তখন মেঘনা পাড়ে কেন আমাদের বাড়ি হলো না সে-কথা ভেবে ছোট মনে ভারি দুঃখ হতো। আরেক কবিতায় কোনো এক গাঁয়ের মেয়ে আমিনা মায়ের আদেশে মাঠ থেকে গরু আনতে যায়। সন্ধ্যা হয়। সে আর ঘরে ফেরে না। মায়ের দুশ্চিন্তা বাড়ে। মেয়ের খোঁজে মা নদী পাড়ে গিয়ে দেখেন দূরে মেঘনার কালো জলে তার আদরের কন্যার শাড়ির আঁচল,কালো চুল ভাসছে। অকস্মাৎ মেঘনা’র ঢল আমেনাকে অথৈ জলে টেনে নিয়ে গেছে। মায়ের সাথে অদেখা আমেনার শোকে আমাদের অনেক শিশু-মন যতবার কবিতাটি পড়া হয়েছে ততবারই ঁেকদেওঠেছে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্ট চরিত্র দুর্দান্ত সাহসী ইন্দ্রনাথ ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে অন্ধকারের রূপ আবিষ্কার করে মোহিত হয়। সেই সাথে পাঠকের মনও নদী বক্ষে নৌকায় চড়ে অন্ধকারের রূপ দেখতে বিচলিত হয়ে পড়ে।
নির্জনতা প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় ‘ধানসিঁড়ি’ নদীটিরে অমর করে রাখলেন। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত দূর প্রবাসে গিয়েও তাঁর শৈশবের-কৈশোরের দেখা কপোতাক্ষ নদ’টিরে ভুলতে পারেননি। ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী হেনা দাশ আমৃত্যু ‘সুরমা’নদীর প্রতি তাঁর ও তাঁর পরিবারের মানুষদের ভালোবাসার কথা বলেছেন। বলেছেন বিভিন্ন পূজো-পার্বণের সাথে সুরমা’র জল কিভাবে মিশে আছে।

river

শৈশবে, তিতাশ ও গোমতী নদীর বিস্তীর্ণ চরাচর দেখে আমার বেড়ে ওঠা। মুগ্ধ হয়ে, দু’চোখ ভরা বিস্ময় নিয়ে দেখেছি তিতাশ ও গোমতীর স্বরূপ। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঋতুর সাথে তাদের বদলে যাওয়া রূপ মনের দিগন্তে ছড়াতো আনন্দ-মৌতাত। আকাশও যেন তাল মিলিয়ে নানা রঙে বর্ণিল হয়ে উঠতো। এদেশের সংস্কৃতি, ঈদ, পূজো-পার্বণে, জেলে নারীদের স্বামীর মঙ্গল কামনায় নদীর ভূমিকা অপরূপ সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে দেখেছি বিভিন্ন পালা-পার্বণে তিতাশ নদীতে বর্ণিল সাজে সজ্জিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হতো। বাদ্য-বাজনার তালে তালে ক্ষীপ্র গতিতে মাল্লারা বৈঠা বাইতো। নদীর জল চিরে নৌকা চলতো আরো তীব্র গতিতে তরতর করে। তখন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা প্রায় সব জেলাতেই আয়োজন করার রেওয়াজ ছিল। এই খেলা শান্ত-শ্যামল গ্রাম-বাংলাতে বড় উত্তেজনাপূর্ণ, আনন্দময় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতো। আমরা লঞ্চের ডেক-এ বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করতাম। আর একটি বিষয় আমার মনে খুব গভীরভাবে দাগ কেটে ছিল সেই শৈশবেই। তা হলো মুসলমানরা লাশ দাফন করে এবং হিন্দুরা দাহ করিয়ে একই ঘাটে গোসল ও ¯স্নান করে শুদ্ধ এবং পবিত্র হতেন। একই স্রোতজলে যদি দুই সম্প্রদায়ের লোক পবিত্র হতে পারে, তবে স্থলে এত বিভেদ কেন থাকবে? বিশেষ করে, ছোঁয়াছোঁয়ির ব্যাপারে এত বাড়াবাড়ি কেন প্রচলিত থাকবে সমাজে। নদীর জল আমার কাছে পবিত্র বলে মনে হত শৈশব থেকেই। বড় হয়ে যমুনা, কীর্তিনাশা, ময়ূর, তিস্তা, সুরমা, পচা, সন্ধ্যা, খোলপেটুয়া, রায়মঙ্গল, ধলেশ্বরী, রংছাতি, সোমেশ্বরী, কর্ণফুলীর রূপ দেখে আমি অভিভূত, মুগ্ধ। সকল নদী ও সমুদ্রের প্রতি আমার ভালোবাসা গভীরভাবে টের পাই পরানের গহিন ভিতরে। ভাবতে ভাল লাগে, এই নদী তীর ধরেই পথে পথে গড়ে ওঠেছিল নগর- সভ্যতা, নির্মিত হয়েছিল কল-কারখানা, প্রসার হয়েছিল বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের। নদী পথে ব্যবসার সুবিধা ছিল বলেই একদিন কুমোরদের তৈরি জিনিসের কদর ও জৌলুস অনেক বেশি ছিল।

কুমিল্লাতে থাকাকালীন গোমতী’র বুকে পাট বোঝাই বড় বড় পাল তোলা নৌকা টেনে নিয়ে যেতে দেখেছি। পরে বড় হয়ে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন এর ‘গুনটানা’ চিত্রকর্ম দেখে বুঝেছি ‘গুনটানা ’কাকে বলে। তীরজুড়ে দেখেছি বালির পাহাড়। আমরা বালক-বালিকারা সেই পাহাড়ে চড়ে মহাউল্লাসে ঘর-বাড়ি বানিয়ে সারা শরীরে, মাথায় বালি মেখে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতাম। নদীর তীরে গ্রামীণমেলা বসতো। মাটির খেলনা, পুতুল, হাড়ি-কুড়ি, কাঠের হাতা,নিত্যদিনের সাংসারিক প্রয়োজনের জিনিস-পত্র, গুড়ের সন্দেশ, চিনি দিয়ে তৈরি খেলনা-খাবার, শীতল পাটি, মুড়কি-মুড়ি, হাওয়াই-মিঠাই কত কি পাওয়া যেতো! নদীর তীরে বটের মূলে অলস দুপুরে কিংবা পড়ন্ত বিকেলে কোনো গ্রামের মানুষ একতারা বাজিয়ে আপন মনে গান গাইতো। তাঁকে ঘিরে থাকতো শহর ফেরতা মানুষ। কখনো কখনো কোনো কোনো দিন আমরাও।

কলেজে পড়াকালীন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ পড়ে জানা হলো জেলে সম্প্রদায়ের জীবনযাপনের দৈনন্দিন টানাপোড়নের নিষ্করুণ কাহিনী। বর্তমানে অতীত পদ্মার জৌলুষ আর নেই। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার উপন্যাসে লিখেছেন-‘পদ্মার বুক কেউ কখনো দেখেনি।’ আজ পদ্মার বুকে কোথাও কোথাও চর জেগেছে। রাজশাহীতে বেশ কয়েক বছর আগে পদ্মার বুকে কোনো কালে পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি মন্দিরের চূড়া দেখা গেছে। তবে আমাকে বেশি স্পর্শ করেছে অদ্বৈত মল্ল বর্মণ এর ‘তিতাশ একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের জেলে পাড়ার নিম্ন বর্গে মানুষদের জীবনযাত্রা। তাদের আচার-আচরণ, সংস্কার, বিশ্বাস, উৎসব-আনন্দ। গোকর্ণ ঘাটের জেলে পাড়ার জেলেরা আজ কেমন আছে বড় জানতে ইচ্ছে করে।
‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ তো শুধু নয়, শত শত নদীর শত ঘাটের কত কত কাহিনী আজো গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে, কে তার খোঁজ রাখে? আমার বাবার প্রিয় নদী‘কুমার’। কোনো কালে এক রাজার ছেলে,যার নাম ছিল ‘কুমার’, একদিন নদী তীরে ভ্রমণে বের হয়ে এই নদীর বুকে এক নৌকাতে কোনো এক কৃষকের অপরূপ সুন্দরী মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়েছিলেন। মেয়েটি তখন নৌকোর ছইয়ের বাইরে খোলা চুলের দাঁড়িয়ে আনমনে আকাশ দেখছিল। কুমার রাজার অমতে মেয়েটিকে বিয়ে করে বাড়ি ফিরছিলেন বজরায়। সেই রাতে ভীষণ ঝড় উঠলো। ঝুম বৃষ্টি। নদীর বুকে উত্তাল ঢেউ। বজরা তলিয়ে গেলো নদীর অতল জলের নীচে। সেই থেকে এই নদীর নাম ‘কুমার’। জলীর পাড়ের কাছের ঘটনা কোনকালে ঘটেছিল কেউ সঠিক বলতে পারে না।

river-2

পদ্মা নদীর মায়ায়-হাওয়ায় মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ি ও গোয়ালন্দ জেলার মানুষেরা বেড়ে ওঠে। আজন্ম তারা পরানের গহীনে এই নদীর প্রতি ভালোবাসা, ভাবুলতা, রোমান্টিকতা পরম সম্পদের মত সযতেœ লুকিয়ে রাখেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী পদ্মার শাখা নদী কুমার ছিল আমার বাবার প্রিয় নদী। রাজৈর উপজেলার গোপালগঞ্জ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদীতে এক দঙ্গল সমবয়সীদের সাথে ঝাঁপিয়ে, সাঁতরিয়ে আমার বাবার শৈশব কেটেছে। কৈশোরে সাঁতার কেটে এপাড় থেকে ওপাড়ে দিতেন পাড়ি। এভাবে ঘণ্টা দুই নদীর জলে ডুবিয়ে চোখ লাল করে বাড়িতে ফিরতেন। দুপুরের সূর্য তখন বিকালের পানে মাথা হেলিয়ে হাসতো। বর্ষার নতুন জলের আহ্লাদে কুমার যখন আরো প্রশস্ত, ভর-ভরন্ত, বাতাসের ছোঁয়ায় কেবলই ঢেউয়ের পরে ঢ্উেয়ের নাচন তুলতে সদা চঞ্চল; সদা ব্যস্ত; তখন আমার বাবার উল্লাস কুমার নদীর জলে বাস করা আনন্দিত শুশুক আর নানা জাতের মাছেদের মতই খলবলিয়ে আরো বেড়ে যেতো। শুশুক তো বাবার সাথে প্রায়ই না কি সাঁতার কাটতো। বর্ষা এলে আমার শাদামাটা, শান্ত বাবার কৈশোরকালীন নদীপ্রীতির দুরন্তপনায় দাদী খুব ভয় পেতেন। পুরো বর্ষা তাঁর বুক ভয়ে ঢিপ ঢিপ করতো। না জানি কখন কুমীর তাঁর ছেলেকে অথৈ জলের নীচে টেনে নিয়ে যায়! খাদ্য বানায়। কারণ দাদা বাড়ির পাশে কুমার নদীর ঐখানটায় একমাত্র বর্ষাকালেই কুমীর আসতো। বড় বড় নৌকা চলতো । পাট বোঝাই। ওপাড় থেকে এপাড় হাই স্কুলে আসতে নৌকায় পার হতে হতো। আমাদের স্কুলের মাঝি, আমাদের সকলের প্রিয় কালু ভাইয়ের নয়টি খেয়া পারাপারের নৌকা এই কুমার নদী গ্রাস করেছে। নৌকার চিহ্নি পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। বাবা যখন ছাত্র ছিল তখন কত নৌকা স্্েরাতে টেনে নিয়ে গেছে আমি জানি না। এই নদীর উপর দিয়ে কত শত/হাজার বর যাত্রীদের নৌকা, নাইওরীদের নৌকা কত সহস্্র বছর চলাচল করেছে, কেউ জানে না। বলতে পারে না। এই নদীকে ঘিরেই রাজৈরের ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠছে। জলীল পাড় একসময়ের স্টীমার ঘাট, পরে লঞ্চ ঘাট হয়েছে।

মাদারীপুরের সবচেয়ে বড় নদী আড়িয়াল খা । কীর্তিনাশা পদ্মা নদীর শাখা। শরিয়তপুরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। আমার মায়ের প্রিয় নদী এই দুটি। বিয়ের সময় বজরাতে চড়ে এই দুই নদী পথ পাড়ি দিয়ে কুমার নদের উপর দিয়ে আমার দাদার বাড়ি অর্খাৎ মা তার শ্বশুর বাড়িতে এসেছিলেন।

বাবা এবং তাঁর সমবয়সীরা এখন আর কেউ ঁেবচে নেই। তাদের জীবদ্দশাতেই চর পড়ে পড়ে নদী সরে গেছে সিকি মাইল দূরে। আবাদী জমি, ঘর-বাড়িতে নদীর কোনো চিহ্ন নেই। সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে খাঁয় গো বাড়ির প্রাচীন উচ্চ ভাঙাচোরা মঠ, যার মাথায় বটগাছ গজিয়েছে। রাজৈর প্রপারে এখন কুমার নদীর অস্তিত্ব আছে শুধু নামে। দখলদাররা নদীর জমি দখল করে দু’পাড়েই তাদের দোকান-ঘর, কারখানা, ঘর-বাড়ি তুলে কুমার নদকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাতে করে হারিয়ে গেছে অনেক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। হাজারো মানুষের গল্প-গাঁথা। কত মানুষের জীবিকা গেছে পাল্টে। খেয়া পরাপারের মাঝি চলে গেছেন শহরে। নদীর জলের আদরে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোর স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে। তুরাগ নদী মৃত্যুর মুখে,সোমেশ্বরীর বুকে বালি, বুড়িগঙ্গার পানি অস্বাস্থ্যকর। এই নদীগুলোর দুই পাড় মানুষেরা দখল করে নিয়েছে। আর্বজনায় ভরে গেছে অনেক খাল; নাগড়া, ময়ূরের হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অন্যতম দায়িত্ব। তারা সে-দিকে কবে ফলপ্রসূ,কার্যকর দৃষ্টি দেবে? নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে? তার জন্য আমাদের আরো কত নদীর মৃত্যু ও নদী তীর দখলের দৃশ্য দেখতে হবে?

happy wheels 2
%d bloggers like this: