Posted in

প্রান্তিক মানুষের যৌথ উদ্যোগ এবং জন উন্নয়ন কেন্দ্রের অবদান

নেত্রকোনা থেকে মোঃ আলমগীর

আত্মীয়তার সূত্রে যোগাযোগের মাধ্যমে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার দূর্গাশ্রম গ্রামের জাত গবেষণা কার্যক্রম দেখে ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের কৃষকরা নিজ গ্রামে জাত গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন। জাত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি আস্তে আস্তে সম্প্রসারিত হয়ে সাধুপাড়া কৃষক সংগঠন রূপে গড়ে উঠে। সংগঠনের কার্যক্রম হিসাবে তারা ধান ও মসলা জাত গবেষণা, বীজ সংরক্ষণ, জৈব সার তৈরি ও ব্যবহার, মাটি ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, সরকারি, বেসরকারি পরিষেবা আদায়, সামাজিক সমস্যা-বাল্য বিবাহ, যৌতুক, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বিভিন্ন দিবস পালন ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। উল্লে¬খিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংহতি প্রকাশের মাধ্যমে যুক্ত হয় গ্রামের সকল পেশাজীবী মানুষ ও তারাকান্দা উপজেলার সমমনা স্বেচ্ছাসেবক আরো ১০টি জন সংগঠন
সাধুপাড়া কৃষক সংগঠনের এই মানুষ গুলোর প্রতিদিনের চিন্তার প্রয়াস, গল্প গুজব, আড্ডা, শলা-পরামর্শ, সাহায্য সহযোগিতা, উপকরণ বিনিময়, দেন-দরবার, সমঝোতা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয়ে উঠে। যার প্রেক্ষিতে এলাকার মানুষের সহায়তা তিল তিল করে গড়ে উঠে সাধুপাড়া জন উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি জন প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান পরিবেশ, লোকায়ত জ্ঞান, প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ, বর্ধণ, কৃষক প্রশাসন, কৃষক জেলে, কুঠির শিল্পী, ছাত্র, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ও আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে প্রাণবৈচিত্র্য মেলা, অচাষকৃত উদ্ভিদের রান্না প্রতিযোগিতা, বনভাতা, বৈশাখ বরণ, বিভিন্ন দিবস উদযাপনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।
dsc05421
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান উৎযাপন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রতিষ্ঠিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (চ্যানেলআই, বিটিভি), ও স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায়, দেশবিদেশের সমমনা অনেক মানুষ জনউন্নয়ন কেন্দ্রে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে এই “জনউন্নয়ন কেন্দ্র” আশপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের সাধারণ মানষের সুখ দুঃখ, নিরাপত্তা, শিখন, সহযোগিতা সিদ্ধান্ত গ্রহণ যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও বিনোদনের বহিঃপ্রকাশ এবং রক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠান পরিদর্শন এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ফলে একে অপরের সাথে সুসম্পর্ক সৃষ্টি ও প্রতিনিয়ত মানিয়ে নেওয়ার মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কৃষক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জনউন্নয়নকেন্দ্র পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সাধুপাড়া ও আশপাশের গ্রামের মানুষের সাথে তাদের যোগসুত্রতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সাথে গড়ে উঠেছে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার পরিবেশ।
dsc09180
এখানে উল্ল্যেখ যে, বারসিক ২০০১ সাল থেকে কিছু আগ্রহী, সমমনা, স্বপ্নদর্শী মানুষকে সহায়তা প্রদানের ফলশ্রুতিতেই সাধুপাড়া জন উন্নয়ন কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। যাত্রার পথ সুগম করার লক্ষ্যে সেই স্বপ্নদর্শী মানুষগুলোর নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, তথ্য, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে বারসিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই মানুষগুলোর নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজ উদ্যোগে সংগঠন তৈরি, জাত গবেষণা ও উন্নয়ন, জৈব ব্যবস্থাপনা  সেবা পরিসেবা আদায়, বিনিময় প্রথা, দিবস পালন, প্রশাসনে যোগাযোগ, সংবাদ সম্মেলন, স্বেচ্ছাশ্রম, মত বিনিময়সভা সেমিনারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে আসছে যেখানে বারসিক শুধুমাত্র সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে মাত্র।

ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের কৃষকদের তৈরি সাধুপাড়া জন উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠানে কৃষকরা প্রতিদিন আড্ডা, গল্প-গুজব, জ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি এবং কৃষি উপকরণ বিনিময়, সম্যস্যা চিহ্নিতকরণ, উৎপাদন খরচ ও বাজারনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ পরিচালনা, প্রাণি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাটি ব্যবস্থাপনা, লোকায়ত জ্ঞানের চর্চা, জাত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা, নেতৃত্ব তৈরি, অধিকার আদায়ে পদক্ষেপ, সরকারি বেসরকারি সেবা প্রাপ্তিতে করণীয়, বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে সভা, সেমিনার, বৈঠক, সম্মেলন, নাটক, ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী, সুস্থ বিনোদন চর্চা, দিবস পালন, স্বেচ্ছাশ্রমে সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষগুলোর শিকড় সতেজ করার মধ্য দিয়ে স্বপ্নবাজ হয়ে উঠছেন প্রতিনিয়ত। এই স্বপ্নবাজ কৃষকরা মনে করেন-

কৃষি মানেই কৃষক আর কৃষক মানে দেশ,
কৃষকের নিয়ন্ত্রণে কৃষি থাকলে কৃষক বাচবে,
কৃষক বাচলে দেশও বাচবে,
সমৃদ্ধ হবে প্রাণবৈচিত্র্য, রক্ষা হবে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশ হবে দুষণমুক্ত, মানবিক জীবনমান হবে সহজতর।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.