সাম্প্রতিক পোস্ট

বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীর তরুণদের স্মারকলিপি

রাজশাহী থেকে শামীউল আলীম শাওন

আসন্ন ঈদুল আযাহকে সামনে রেখে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আবার কোরবানী করে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়। এতে করে পরিবেশ দূষণ ঘটে। এই পরিবেশ দূষণ রোধ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সম্প্রতি স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাজশাহীর তরুণরা। ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস নামের একটি বেসরকারি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তরুণরা এ স্মারকলিপি প্রদান করে।

Rajshahi Memo News Photo-24 August 2017
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করে, এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি বা জবাই দেন। কিন্তু এই পশু কোরবানির পর সৃষ্ট বর্জ্য নিয়েই যত ঝামেলা। সুষ্ঠুভাবে কোরবানি না দিলে পরিবেশ দূষণ ঘটে, যা ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু বিভাগীয় শহর রাজশাহীসহ সারা দেশের ঈদ-উল-আযহা পরবর্তী অভিজ্ঞতা বড়ই তিক্ত। তাই ঈদ পরবর্তী সময়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অতি জরুরি। পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য যে পরিবেশ দূষণ করে তা মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করে। আর তাই দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা প্রয়োজন।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কোরবানীর পশুর হাটগুলো যততত্র বসে এবং কোরবানীদাতারা পশু কিনে অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়িতে রাখে। যেখানে ঈদের কয়েকদিন ধরে পশুগুলো রাখার উপযোগী তেমন ব্যবস্থা থাকে না। অনেকে পশুর খড় এবং অন্যান্য জিনিস এলোমেলোভাবে যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে যা কিনা পশু জবাইয়ের আগেই পরিবেশ দূষিত করে। সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের জন্য এই অতিরিক্ত বর্জ্য সরানো একটা কঠিন কাজ। এই সমস্যা আরো প্রকট হয় ঈদের দিন লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তার পাশে কোরবানি দেয় এবং রাস্তার পাশে রক্ত জমে থাকে।

স্মারকলিপিতে তারা আরো জানায় যে, ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরে প্রচুর মানুষ। তাদের কেউ সড়ক, কেউ রেল, আবার কেউবা নৌপথে বাড়ি ফিরে। এতে সড়ক, রেল ও নৌ পথের যানবহনগুলোতে সৃষ্টি হয় বাড়তি চাপ। আর এ বাড়তি চাপ সামলাতে সড়ক, রেল ও নৌ পথে সংযোজন করা হয় অতিরিক্ত যানবাহন। তারপরও যানবহনগুলোতে বহন করা হয় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী। এর ফলে যাত্রা পথে ঘটে অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনায় যাত্রীসহ সড়কের সাধারণ পথচারীরা গুরুত্বর আহত হয়। এমনকি তাদের অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এতে ঈদের খুশি মুর্হুর্তের মধ্যেই পরিণত হয় দুর্ঘটনার বিষাদে। সেই জন্য দূর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শামীউল আলীম শাওন, সাধারণ সম্পাদক শাহরুখ আহমেদ শুভ, নির্বাহী সদস্য সুমন হালদার প্রমুখ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: