Posted in

নার্সারি আমার জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম

রাজশাহী থেকে আয়েশা তাবাসসুম

বরেন্দ্র অঞ্চল একটি খরাপ্রবণ এলাকা। এই এলকায় এক সময় নানা জাতের এলাকা উপযোগী গাছ গাছালি ছিলো। কালের বিবর্তনে সে সকল অনেক গাছ এখন কমে গেছে বা কিছু গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একসময় প্রচুর ঝোপ জঙ্গল ছিলো এই এলাকায়। কিন্তু এখন কমে গেছে। গাছ কমে যাবার কারণে নানা ধরনের পাখি বৈচিত্র্যও কমে গেছে। নানা কারণেই গাছ আমাদের খুবই উপকারী বন্ধু। গাছ আছে বলেই আমরা স্ন্দুর সবুজ এই পৃথিবীতে টিকে আছি। জীবনধারণে গাছের উপর আমরা নির্ভরশীল কিন্তু গাছ আমাদের উপর নির্ভর করে না।


আমাদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তি বিশেষ আছে যারা নির্বিচারে গাছ ধ্বংস করেন আবার কিছু ব্যক্তি আছে যারা পরম মমতায় ও যতেœ গাছ লাগান ও গাছের দেখাশুনা করেন। গাছকে ভালোবাসেন, যতœ করেন তেমনই এমন একজন উদ্যোগী মানুষ মোঃ আবুল বাসার। ছোটোবেলা থেকেই তিনি সৌখিন প্রকৃতির মানুষ। খানিকটা শখের বসে নিজ বাড়ির উঠানে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো শুরু করেন। পরবর্তীতে গাছের প্রজাতি বাড়ানোর নেশা প্রবল হয়। আর সেই লক্ষ্যে তিনি এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে ২০১০ সালে ছোট একটি নার্সারি করেন।


শুরুর দিকে আবুল বাসারের এই নার্সারিতে ৩০-৪০ প্রজাতির গাছ ছিল। বর্তমানে তার এই নার্সারি বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফল, ফুল ও ঔষধের চারাগাছে সমৃদ্ধ। তার এই নার্সারিতে প্রায় ৩০০-৩৫০ প্রজাতির চারা গাছ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য চারা হচ্ছে আমলকি, হরতকি, শিকাকায়, বাসক, ড্রাগনফল, ইত্যাদি। তিনি বলেন, ‘শখের বসে নার্সারি শুরু করলেও এই নার্সারি আমার জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যমে হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আক্ষেপ করেই বলেন, ‘আমাদের গ্রামের নার্সারির তুলনায় শহরের নার্সারিগুলোতে বিক্রি বেশি হয়। গ্রামের মানুষ সৌখিন বাগান চাষে অনেকটা পিছিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার নার্সারি থেকে বিভিন্ন ধরনের ফুলের ও ঔষধের চারাগাছ বিক্রি হয় না বললেই চলে। হলেও খুব একটা বেশি না। তবে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও সবজির চারা আগের থেকে বেশি মানুষ কিনে এবং লাগায়।’


আবুল বাসার জানান, ফুল ও ঔষধি চারা গাছের গুনাগুণ বুঝলে হয়তো গ্রামের মানুষও বেশি বেশি এ সব উদ্ভিদ লাগাতে উৎসাহ পাবেন। গ্রামের লোকজন যদি ফুলসহ নানা ধরনের সৌখিন উদ্ভিদ যেমন, পাতাবাহার, ম্যানিপ্যন্ট, ক্যকটাস, বনসাই ইত্যাদি রোপণ করেন তাহলে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকবে এবং এই গাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাই আসুন বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.