Posted in

‘ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস করতে হলে উপকারী পোকা বাঁচাতে হবে’

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে সঞ্জিতা কির্ত্তুনীয়া
সম্প্রতি বারসিক’র উদ্যোগে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে বালাইনাশক ব্যবহারের সমাজভিত্তিক পরিবীক্ষণ (সিপ্যাম) বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণ করেন রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক, কৃষাণী, কিশোর, কিশোরী এবং বারসিক প্রোগ্রাম সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান, মাঠ সহায়ক অনন্যা আক্তার, সঞ্জিতা কির্ত্তুনীয়া প্রমুখ। উক্ত সভায় কৃষিতে কৃষকদের ব্যবহৃত রাসায়নিক সার বিষ ও কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য এবং কারণ উঠে আসে।


আলোচনায় রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক নিমাই সরকার বলেন, ‘আমরা আসলে নিরুপায় হয়ে এতো সার বিষ ব্যবহার করি। কেননা ফসলে নিত্য নতুন পোকার আক্রমণে আমরা দিশেহারা হয়ে যাই। তাই পোকা দমনে বাধ্য হয়েই আমরা এসব ব্যবহার করছি। এছাড়া বেশি ফসলের আশায়ও আমরা এটা করছি।’ পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্জিতা কির্ত্তুনীয়া আলোচনা করেন ফসলের উপকারী পোকা এবং অপকারী পোকা সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘সব পোকাই ফসলের ক্ষতি করেনা। ফসলে অনেক পোকা আছে যেগুলো ক্ষতিকর পোকার ডিম্ব ও ক্রীরা খেয়ে সেগুলোর বংশবিস্তার রোধ করে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু উপকারি পোকা যেমন- প্রজাপতি, মাকড়সা, লেডিবার্ড বিটল এবং ফিঙে পাখির চিত্রের সাহায্যে এদের ক্ষতিকর পোকা দমনের পদ্ধতি আলোচনা করেন এবং কৃষকরাও এর সত্যতা উপলব্ধি করতে পারেন।


সবশেষে প্রোগ্রাম সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস করতে হলে আমাদের উপকারী পোকা বাঁচাতে হবে। তা না হলে রাসায়নিক সার বিষ দিতে দিতে সব উপকারী পোকা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পরিবেশে শুধু ক্ষতিকর পোকার অস্তিত্ব থাকবে। ফলে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পরবে এবং পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’ আর এই উপকারী পোকা সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের নিজেদের উৎপাদিত গোবর সার, কেচোঁ সার, ছাই, নিম পাতা, মেহেগনির বীজ, পাটের বীজ, তামাক পাতা ইত্যাদি উপাদান দিয়ে নিজেরা সার এবং জৈব বালাইনাশক তৈরি করে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। বেশ কয়েকজন কৃষক বিষয়টিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অল্প পরিমাণে হলেও তারা জৈব কৃষির চর্চা করবেন বলে জানান। এতে যেমন খাদ্য হবে বিষমুক্ত, মাটি হবে উর্বর, ভালো থাকবে উপকারী পোকা এবং সর্বোপরী ভালো থাকবে পরিবেশ এবং প্রতিবেশ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.