Posted in

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সমস্যা নিরসনে আখ চাষ

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
বরেন্দ্র অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে ফসল চাষে পানি সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। বৃষ্টিপাতের তারতম্য মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এ সমস্যা দিনকে দিন আরো প্রকট হচ্ছে। কৃষকদের একমূখী ধান চাষেরর ফলে পানির স্তর যতদিন যাচ্ছে আরও নিচে নেমে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির তৈরি করছে। খাবার পানির সমস্যা এখন প্রকট। তবে সব থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে কৃষি কাজে। পানি সঙ্কটের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে।


এ সমস্যা সমাধানে কিছু কৃষক ভিন্ন কিছু করার চিন্তাভাবনা করেন। তেমনই একজন কৃষক রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্থফা (৪২)। তিনি গত বছর থেকে নিজের ৫ বিঘা জমিতে শুরু করেছেন চিবিয়ে খাওয়া উপযোগি আখের চাষ। আমরা জানি, আখ এক বছরের ফসল আবার মুড়ি হিসেবে এই ফসলের জনপ্রিয়তা আছে। একবার রোপণ করে ভালো পরিচর্যা করা হলে একটানা ৩-৪ বছর সেখান থেকে ফলন পাওয়া যায়। আবার আখ চাষে ১-২ বার সেচ প্রয়োগ করলেই চলে। রাসায়নিক সার ব্যবহারের তেমন প্রয়োজন হয় না; জৈব সারে আখ ভালো ফলন হয়।

আখ কেন খরা উপযোগি?
আমরা যদি ধান চাষের কথা চিন্তা করি দেখতে পাব ধানের জমিতে সব সময় দাঁড়ানো পানি দিয়ে রাখতে হয়। ধান চাষে ন্যূনতম ৮-১০টি সেচ দিতেই হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে আবার ধানের ক্ষেত্রে সেচের পরিমাণ আরো বেশি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এককেজি ধান উৎপাদন করতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা যদি আখের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব আখ লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত মাটি ভেদে ১-২টি সেচ দিতে হয়। জমিতে সম্পূরক সেচ (শুধু মাটি ভিজিয়ে দেওয়া) দিলেই চলে। অন্য অনেক ফসলের থেকেও আখে সেচ প্রয়োগ করতে হয় অনেক কম। আখ চাষে আবার সাথী ফসল হিসেবে সরিষা, মসুর, মটর চাষ করা যায়। ধান চাষের সাথে তুলনা করলে আখ চাষে ৮ ভাগের ১ ভাগ পানিও ব্যবহার করতে হয় না।

বরেন্দ্র অঞ্চলে শুরু হলো আখ চাষ
গতবছর এ সময়ে বারসিক ও দুবইল কৃষক সংগঠনের মাসিক সভায় প্রথমে আখ চাষ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর দুবইল গ্রামের কৃষক মোঃ গোলাম মোস্তফা আখ চাষ করতে আগ্রহী হন। এরপর শুরু হয় আখের বীজ সংগ্রহরে প্রচেষ্টা। পাশের মহোনপুর উপজেলা থেকে লালবাবু ও অমৃত সাগড় নামের জাতের বীজ আখ সংগ্রহ করে গত বছর নভেম্বর মাসে ২ বিঘা জমিতে রোপণ করা হয় হয়। ভালো পরিচর্যা করার জন্য প্রথম বছরেরই বিঘা প্রতি ২৮ হাজার টাকা করে লাভ হয়। এ বিষয়ে মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আখ চাষে পানি অনেক কম লাগে, পরিষ্কার পরিছন্নভাবে চাষ করলে ধানের থেকে আখে অনেক বেশি লাভ হবে। সেচ বিষয়ে বলেন, ‘আখ চাষে তেমন কোন পানির প্রয়োজন হয় না, যা আমাদের অঞ্চলের জন্য খুবই ভালো একটি বিষয়।’ অপর একজন কৃষক মো. লিয়াকত আলী (৪৫) বলেন, ‘আমরা ফসল চাষে পানির ব্যবহার কমানোর জন্য রবিশস্য আর আমন ধানের চাষ করতাম। কিন্তু একমাত্র আখ চাষেই হতে পারে সমাধান। সারাবছর মাত্র ১-২টি সেচ প্রয়োজন হয় আখে। এটা আমাদের অঞ্চলের জন্য অনেক ভালো একটি সমাধান হতে পারে।’

আখ চাষের বর্তমান অবস্থা
প্রথম বছরে সফলতা পাওয়া জন্য মো. গোলাম, মোস্তফা এবার ৫ বিঘা জমিতে আখের চাষ করেছেন। পাশাপাশি গ্রামের ৪জন কৃষককে ৪ বিঘা জমিতে চাষ করতে সহযোগিতা করেছেন। পাশের সাহাপুর ও চিমনা গ্রামের ৬ জন কৃষক আখের বীজের জন্য যোগাযোগ করছেন। মো. গোলাম মোস্তফা মনে করছেন, আখ চাষ এ অঞ্চলে আগামীতে ফসল চাষ পানি সমস্যার সমাধানে সহযোগি হবে। ধানের বিকল্প হিসেবে একদিন আখ অনেক কৃষক করবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.