Posted in

নেত্রকোনার ২৭টি নদী হারিয়ে গেছে, বিপন্নপ্রায় ১৯টি নদী

নেত্রকোনা থেকে শংকর ম্রং

৫৭টি নদী রক্ষার দাবিতে নেত্রকোনা সম্মিলিত যুব সমাজ, নেত্রকোনা শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি এবং বারসিক’র আয়োজনে গতকাল নেত্রকোনায় বিশ্ব নৌ দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। নেত্রকোনা শহরে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও বয়সের প্রায় শতাধিক লোকের অংশগ্রহণে নেত্রকোনা প্রেসক্লাব’র সন্মুখের সড়কে নেত্রকোনা অঞ্চলের ৫৭টি ছোট বড় নদী রক্ষার দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেত্রকোনা পৌরসভার মাননীয় মেয়র নজরুল ইসলাম খান মানববন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

IMG_20191006_114635-W600
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নেত্রকোনা অঞ্চলের ৫৭টি নদীর নাম ও নদীগুলো রক্ষায় বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, ‘নেত্রকোনার ৫৭টি নদীর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭টি নদী বিলুপ্ত হয়ে গেছে, বিলুপ্তপ্রায় রয়েছে ১৯টি নদী এবং বর্তমানে প্রবহমান রয়েছে ১১টি নদী। যে ২৭টি নদী হারিয়ে গেছে সেগুলো মানুষ দখল করে চাষাবাদ করছেন এবং বিলুপ্তপ্রায় ১৯টি নদীও মানুষের অবৈধ ভোগদখলে রয়েছে। অতিস্বত্তর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে এ নদীগুলোর বিলুপ্ত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ তারা আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রবহমান ১১টি নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কংস, সোমেশ্বরী, মগড়া, ধনু, বিষনাই উল্লেখযোগ্য। এসব নদীও অবৈধ দখল, অপরিকল্পিতভাবে বালি ও পাথর উত্তোলন, অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা ইত্যাদি কারণে ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলোতে স্রোত নেই বললেই চলে।’

IMG_20191006_115136-W600
বক্তারা জানান, নেত্রকোনা শহরের চারিদিক দিয়ে প্রবাহিত জেলার অন্যতম নদী মগড়া অপরিকল্পিত সড়ক, ব্রীজ নির্মাণ ও অবৈধ দখলের মাধ্যমে অট্টালিকা নির্মাণ এবং যত্রতত্র শহরের ময়লা অবর্জনা ফেলার ফলে ভরাট হয়ে আজ মৃতপ্রায়। অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদীর দখলকৃত জমি উদ্ধার, নদী খনন ও নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা না গেলে আগামী বেশ কয়েক বছরের মধ্যে মগড়া নদীও হারিয়ে যাবে।

IMG_20191006_115136-W600
বক্তাগণ যে ২৭টি নদী হারিয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করা, বিপন্নপ্রায় ১৯টি নদীগুলো রক্ষা ও পুনঃখনন করা এবং যে ১১টি নদী প্রবহমান রয়েছে সেগুলো সংস্কার ও নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকারের (পৌর সভা, উপজেলা পরিষদ) নিকট প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

IMG_20191006_115553-W600
নেত্রকোনা পৌর সভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান নেত্রকোনা শহরের চারিদিক দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদী রক্ষায় পৌরসভার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। মগড়া নদীতে শহরের ময়লা অবর্জনা ফেলা বন্ধ করে নদী পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা এবং মানুষের ব্যবহার উপযোগী করতে নদী সংস্কার করা এবং পৌর এলাকায় ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে ডাস্টবিন তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান। তিনি নদী রক্ষায় যুব সমাজ ও নাগরিক সমাজের যেকোন উদ্যোগে পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বিশ্ব নদী দিবসের সফলতা কামনা করেন।
বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠানের আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবু শ্যামলেন্দু পাল, সময় টিভি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর জেলা প্রতিনিধি আল্পনা বেগম, বারসিক’র অহিদুর রহমান, শংকর ম্রং প্রমূখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.