নেত্রকোণা অঞ্চলের জলবায়ু সংকট নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনা থেকে মো. অহিদুর রহমান

নেত্রকোণা সম্মিলিত সমাজ আয়োজিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র সহযোগিতায় ‘জলবায়ু পরিবর্তন: নেত্রকোণা অঞ্চলের সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক জলবায়ু সংলাপ নেত্রকোণা সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, মহলিা ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াছমীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গাজী মোবারক হোসেন,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক তুহিন, চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব উল মজিদ, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হক, সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল,খলিলুর রহমান শেখ ইকবাল, রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তাফা, লেখক কবি এনামুল হক পলাশ, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী প্রবাল সাহা,নারীপ্রগতির ব্যবস্থাপক মৃনালকান্তি চক্রবর্তী, শিক্ষাসংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর সরকার, সাংবাদিক মুনিরুজ্জান মোহসীন, জেলা সংগঠক যোগেশ চন্দ্র দাস, কলমাকান্দা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিমল সাংমা, এএসপিএস পরিচালক মুস্তাকিম বিল্লাহ, বৃক্ষপ্রেমিক আ: হামিদ, যুব সংগঠনের সদস্য ও বারসিক’র কর্মকর্তাবৃন্দ,বজ্রপাতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিগ্রস্থ সদস্যরা।

সংলাপে প্রথমেই ধারণা পত্র পাঠ করেন নেত্রকোণা সম্মিলিত যুব সমাজের সভাপতি পার্থ প্রতিম সরকার, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন
মহলিা ভাইসচেয়ারম্যান তুহিন আক্তার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াছমীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গাজী মোবারক হোসেন, লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক তুহিন, চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব উল মজিদ, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হক, সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তাফা, লেখক কবি এনামুল হক পলাশ, নারী প্রগতির ব্যবস্থাপক মৃনালকান্তি চক্রবর্তী, শিক্ষাসংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর সরকার যুব সংগঠক প্রকাশ রায়, সীমান্তের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিমল সাংমা, জেলে সংগঠক যুগেশ দাম।

সংলাপে বক্তারা বলেন, ‘বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে, বায়ুমন্ডল গরম হচ্ছে, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিফসল,্ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি জমি, ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিলুপ্ত হচ্ছে বনভূমি, বন্যপ্রাণী ও তার আবাসস্থল। হারিয়ে যাচ্ছে পেশা, বাড়ছে উদ্বাস্তুতা, বাড়ছে সংঘাত, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব সংঘাত। আগাম বন্যা, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভাঙা, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি,ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ী ঢল, অনাবৃষ্টি, পানির স্তর নি¤œগামি, সীমান্ত অঞ্চলে খাবার পানির সংকট, কোল্ড ইনজুরি, হটইনজুরি, কৃষিজমি বালিতে নষ্ট।’

প্রধান অতিথির আলোচনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজের ঘর থেকে। এধরণের আলোচনা তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত করতে হবে। গাছ লাগাতে হবে, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমরা প্রকৃতিকে বাঁচাবো, প্রকৃতি আমাদের বাঁচাবে।’

পরিমল সাংমা বলেন, ‘কলমাকান্দা কৃষি জমিতে পাহাড়ি ঢল, পাহাড় ধ্বসে ও পাহাড়ি বালির কারণে উর্বরাশক্তি নষ্ট হচ্ছে, বালিতে ভরে যাচ্ছে ফসলি জমি কৃষক হারাচ্ছে কৃষি জমি। সীমান্তে গ্রামের পর গ্রামে খাবার পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের জমির ফসল, বসতভিটার মাটি ক্ষয় ও অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।’

আলোচনায় দুর্যোগের কথা উঠে আসে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অভিযোজন করে চলতে হবে, বৈশ্বিকভাবে আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা নিজেরাও নিজেদের ক্ষতি করছি। আমাদের সমন্বিত চেষ্টায় প্রকৃতিকে রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান।

happy wheels 2

Comments