সাম্প্রতিক পোস্ট

বারসিক চাষাবাদের মাধ্যমে স্থানীয় জাত টিকিয়ে রাখছে

মানিকগঞ্জ থেকে মো. মাসুদুর রহমান 

বারসিক’র উদ্যোগে মানিকগঞ্জ অঞ্চলের কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায়োগিক কৃষি গবেষণা এবং কৃষকের অধিকার বিষয়ক চলমান কার্যক্রম সর্ম্পকিত অবহিত করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক হাবিুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া মানিকগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কৃষি অংশগ্রহণ করেন।

বারসিক’র কৃষিবিদ এবিএম তৌহিদুল আলম এর শুভেচ্ছা বক্তব্য ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘তাল ও খেজুর বীজ বপন এবং ফল ও বৃক্ষ মেলায় বারসিক’র অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বিপননে আপনারা যোগাযোগ করলে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারব। আপনারা উপ-সহকারীদেরকে অবহিত করবেন। তারা আপনাদের কে সহযোগিতা করবেন, না করলে আমাকে বলবেন। প্রত্যেকটি সংগঠনের সদস্যদের নিকট কৃষি সেবা পৌছে দেয়া হবে। মাঠ দিবসে আমাদেরকে সম্পৃক্ত করবেন। লোকায়ত জ্ঞানের পাশাপাশি কৃষিপ্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়েও কাজ করতে পারবেন। এতে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।’

70514850_1409705432525863_9079183933119135744_n
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন মানিকগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (বীজ বিপনন) কৃষিবিদ আছিব ইকবাল ছাকী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৈজ্ঞানিক উপায়ে অনেক ব্যয় বহুলভাবে ফসলের জাতসমূহ টিকিয়ে রেখেছে সেখানেও কিন্তু ঝুঁকি রয়েছে। আর বারসিক এর চাষাবাদের মাধ্যমে জাত টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এই উদ্যোগকে আমি ধন্যবাদ জানাই। মানঘোষিত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে কোন ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আসবেন এবিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই।’

সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার টিপু সুলতান সপন বলেন, ‘আমাদের অনেক কৃষক বারসিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন, কাজ যাতে অভার লেপিং না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভার্মি কম্পোস্ট ও বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সাথে যৌথভাবে করতে পারলে আমরা পরামর্শ দিতে পারব ও সহায়তা করতে পারব। ফলে কাজটা আরো ভালো হবে।’

ঘিওর উপজেলার কৃষি অফিসার বিপুল হোসেন বলেন, ‘ঘিওর উপজেলার বারসিক’র কাযক্রম বাস্তবায়নে আরো সমন্বয় বাড়াতে হবে। ভূমিধ্বস ঘিওর উপজেলার একটি বড় সমস্যা। এক্ষেত্রে বনায়নের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। স্থানীয় জাত সংরক্ষণ খুবই ভালো উদ্যোগ। এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে ঘিওর উপজেলায় স্থানীয় জাতের সরিষা, সূর্যমুখী, তিল, সয়াবিন, পিঁয়াজও ভাসমান সবজি চাষ কর্মসূচির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

মানিকগঞ্জের পাট গবেষণা ইনষ্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. লুৎফর রহমান বীজ ব্যাংকের পাশাপাশি কৃষি বিষয়ক যে সব জ্ঞান আছে সেগুলো সংগ্রহ করে ইন্ডিজেনাস ব্যাংক করার প্রস্তাব দেন।

70780304_2187050268260049_8555400383470501888_n
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বলেন, ‘এযাবৎ কালে কোন এনজিও তাদের কার্যক্রম আমাদেরকে অবহিত করে নাই। এ জন্য বারসিককে ধন্যবাদ জানাই। ট্রাইকো কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ফসলের গোড়াপচা রোগ হয় না।’

জেলা কৃষি উন্নয়ন কমিটির সভাপতি করম আলী বলেন, ‘এ বছর আমাদের সংগঠনের কৃষক ভাইয়েরা ন্যায্য মূলে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। আমি তার জন্য আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আমাদের সংগঠনটি প্রত্যেকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে চায়।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: