সাম্প্রতিক পোস্ট

উপজেলা প্রশাসনের সাথে স্থানীয় যুব সংগঠনের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

নেত্রকোনা থেকে শংকর ম্রং
বাংলাদেশের মোট ৪২৩টি হাওর রয়েছে। হাওর মূলতঃ নিচু ভাটি এলাকা, যেখানে বছরের প্রায় ৭/৮ মাস পানি জমে থাকে। কোন কোন হাওরের বেশকিছু অংশ সারাবছরই পানিতে নিমজ্জিত থাকে। নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি উপজেলায় (খালিয়াজুড়ি, মদন, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া ও আটপাড়া) ৮১টি হাওর রয়েছে। হাওরের জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই কৃষক মূলত একক ফসল বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু হাওরে ধান চাষ করতে গিয়ে ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে জমি চাষ, চারা রোপণ, ধানের পরিচর্যা ও ধান কাটার সময়ে বিশ্রাম নেওয়ার কোন স্থান নেই হাওরের জমিতে। হাওরে প্রয়োজনীয় বন বা গাছ না থাকায় শীতকালে প্রচন্ড শীতে ও গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপে পুড়ে কৃষকদেরকে মাঠে কাজ করতে হয়। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তাদেরকে অনেক দূরের গাছের ছায়ায় বা গ্রামে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। উঁচু স্থান না থাকায় একটুখানি ছায়ার জন্য পানি সহনশীল গাছের চারা রোপণ করারও সম্ভব হয় না হাওরাঞ্চলে। বর্তমান কৃষকবান্ধব সরকার হাওরাঞ্চলের কৃষক তথা কৃষির উন্নয়নে হাওরগুলোর ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেছেন। যার সুফল হিসেবে কৃষকরা আগাম বন্যার হাত থেকে তাদের একমাত্র বোরো ধান ফসল রক্ষায় সক্ষম হচ্ছেন।


দেশের অন্যান্য হাওরের ন্যায় নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হাওর রক্ষায় বাঁধ নির্মিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মদন সদর ইউনিয়নের উচিতপুর গ্রামের কয়ার হাওরে উপর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নেত্রকোনার উদ্যোগে বালই ব্রীজ থেকে তিয়শ্রী-ফতেপুর রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার বেরি বাঁধটিতে সাম্প্রতিক সময়ে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্বিতীয়বারের মত মাটি কেটে বাঁধটি আরো উঁচু করায় এখন বৃক্ষ রোপণের উপযোগি হয়েছে। বাঁধের নিকটবর্তী মিনি কক্সবাজার খ্যাত গ্রাম উচিতপুরের ‘আলোর দিশারী যুব সংগঠন’ ও গ্রামবাসীরা বাঁধটিতে পানি সহনশীল গাছের বনায়নের মাধ্যমে হাওরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, পরিবেশ উন্নয়ন ও কৃষকবান্ধবকরণের উদ্যোগ নিলেও প্রশাসন থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাঁধটিতে বৃক্ষ রোপনে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন গবেষণামূলক বারসিক’র সহযোগিতা কামনা করলে বারসিক পানি সহনশীল গাছের চারা (হিজল ও করচ) দিয়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। উচিতপুর গ্রামের আলোর দিশারী যুব সংগঠন বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে গাছের চারা রোপণ ও রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে। উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সার, গাছে খুটি দেয়ার জন্য বাঁশ ও কারিগরী সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে।


বাঁধে পানি সহনশীল বনায়নের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়ালীউল হাসানের উদ্যোগে এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমূল হাসানের উপস্থিতিতে যুব সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বারসিক’র প্রতিনিধিদের সাথে বাঁধের উপর এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে বনায়নের কর্মপরিকল্পনা করা হয়। মতবিনিময় সভায় আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাঁধে পানি সহনশীল দু’টি জাতের গাছের চারা (হিজল ও করচ) রোপণের সিদ্ধান্ত হয়। আলোর দিশারী যুব সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছাশ্রমে গাছের চারা রোপণের জন্য ৩ মার্চ থেকে বাঁধের দুই পাশে গর্ত করে এবং প্রয়োজনীয় সার দিয়ে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বারসিক’র উদ্যোগে বাঁধে বনায়নের জন্য ৪০০/৪৫০টি হিজল ও করচের চারা যোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯/১০ মার্চ, মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উপস্থিতিতে বাঁধে গাছের চারা রোপণ করা হবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: