Posted in

সচেতনতাই পারে ডায়রিয়ার কমাতে

নেত্রকোনা থেকে শংকর ম্রং

নিচু এলাকা ও হাওরাঞ্চলে বর্ষায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি এখন নেমে যেতে শুরু করেছে। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যস্ত বোরো মৌসুমের বীজতলা তৈরির কাজে। পাশাপাশি নিচু এলাকা ও হাওরাঞ্চলের সকল শ্রেণীর জনগোষ্ঠী জলাশয়, নদী ও হাওরে মাছ ধরে দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটাচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারগুলোতেও প্রতিদিন তুলনামূলক সস্তায় প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষভাবে নেত্রকোনা অঞ্চলের প্রায় সব পরিবারেই দৈনিক খাদ্য তালিকায় স্থানীয় জাতের মাছ থাকছে। মাছের পর্যাপ্ততা থাকলেও এলাকায় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির (গোসল ও ধোয়ামুছার জন্য)। বন্যা পানি নেমে যাওয়া ও জলাবদ্ধ এলাকার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। কোন কোন গ্রামে ডায়রিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে। নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীতে ভরে গেছে এবং বেড সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা ফ্লোরে অবস্থান নিয়েছে।

DSC04551-W600
ডায়রিয়ার প্রার্দুভাব দেখা দেওয়া নেত্রকোনা অঞ্চলের এমনই একটি গ্রাম অভয়পাশা। অভয়পাশা বাজার ঘেষা গ্রামটিতে ১৪৮টি পরিবারের বসবাস (সূত্র ঃ বিবিএস)। এ গ্রামটির অধিকাংশ পরিবারের কেউ না কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। অভয়পাশা পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ১৪/১৫ জন লোক (নারী-পুরুষ ও শিশু) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত (প্রতিটি পরিবারেই ১/২জন)। সরেজমিনে পাড়াটি ঘুরে জানা যায়, মূলত জনগোষ্ঠীর অসচেতনতাই ডায়রিয়ার প্রকোপের মূল কারণ। ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকার জনগোষ্ঠী বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষকৃত পুকুরে একই সাথে গোসল, কাপড় ধোয়া, গরু ধোয়ানো, চাল ও সবজি ধোয়া এবং রান্নায় কাজে পুকরের পানি ব্যবহারকেই ডায়রিয়া রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডায়রিয়া সম্পর্কে গ্রামের জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বারসিক রামেশ্বরপুর রির্সোস সেন্টার ও রামেশ্বরপুর কিশোরী সংগঠনের উদ্যোগে এবং সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক (জাতীয় তরুণ সংঘ) এর সহযোগিতায় (রির্সোস পারসন) ১৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ অভয়পাশা পশ্চিম পাড়া জাহেদ মিয়ার বাড়িতে এক ডায়রিয়া রোগ সম্পর্কে এক প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় গ্রামের প্রায় ৫০জন নারী-পুরুষ ও শিশু অংশগ্রহণ করে।

DSC04541-W600
ডায়রিয়া রোগের কারণ, রোগের লক্ষণ, ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা, ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকার উপায় ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক (জাতীয় তরুণ সংঘ) এর প্যারামেডিক লাকি আক্তার, কাউন্সিলর দীপা আক্তার, সুপারভাইজার সুলতান মিয়া এবং বারসিক এর শংকর ¤্রং ও পার্বতী সিংহ। আলোচনায় পুকুরের নোংড়া পানিতে গোসল, কাপড় চোপড়, খাবার সামগ্রী (চাল, সবজি, ফল) না ধোয়া, মূখ কুলি না করা, খাবার ঢেকে ও নিরাপদ স্থানে রাখা, বাসনপত্র পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা, হাতের নখ বড় না রাখা, বিশুদ্ধ পানি (টিউবওয়েলের আর্সেনিকমুক্ত পানি) পান করা এবং খাবারের আগে ও টয়লেটের পর সাবান দিয়ে ভালভাবে হাত ধোয়ার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। ডায়রিয়া রোগ হলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খাবার স্যালাইন খাওয়া এবং ডায়রিয়ার মাত্রা বেশি হলে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। গুড় ও লবণ দিয়ে ঘরে স্যালাইন তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়। আলোচনায় কলেরা রোগ, এর লক্ষণ এবং করণীয় সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। কলেরা হলে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।

IMG_20171024_115443-W600
ডায়রিয়া রোগ সম্পর্কে চেতনতামূলক প্রচারণার ফলে গ্রামের সকল নারী-পুরুষ এ রোগ সম্পর্ক জানতে পেরেছে। তারা কোন রোগ হলে বাজারে অবস্থিত সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিকে গিয়ে পরামর্শ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সঠিক উপায়ে হাত ধোয়ার পদ্ধতি সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীরা ধারণা পেয়েছেন। আলোচনা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী পরিবারের মাঝে একটি করে হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.