সাম্প্রতিক পোস্ট

কিশোরী সংগঠনের বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ

কিশোরী সংগঠনের বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ

নেত্রকোনা থেকে রুখসানা রুমী:
মহামারী করোনা মোকাবেলায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামের অগ্রযাত্রা কিশোরী সংগঠন উদ্যোগ গতকাল ১৮ জুন ফচিকা গ্রামের ১০০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে নিজেদের তৈরিকৃত কাপড়ের ১০০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ফচিকা গ্রামের কিশোরী সংগঠনের কিশোরীরা এলাকার শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুব ও নারীদের স্বাস্থ্র সুরক্ষায় এবং এলাকার কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে বিগত চার বছর যাবত।

করোনা ভাইরাস সম্পপর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা, লিফলেট বিতরণ, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য এলাকার লোকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে এই কিশোরী সংগঠনটি। সংগঠনের সদস্যরা গ্রামের ১০০ জন দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে করোনা সংক্রমণ রোধে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ১০০টি সাবান, ১০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও গ্রামের ১০ জন প্রবীণ ব্যাক্তিকে তারা স্থানীয় সরকার (ইউপি) থেকে ১০ কেজি করে চাল পেতে এবং ৭জন প্রবীণ ব্যক্তিকে বযস্ক ভাতার জন্য কার্ড করে দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয় তার মধ্যে অন্যতম হল মূখে মাস্ক ব্যবহার করা। করোনা সংক্রমণকালীন সময়ে সকলকে ঘরের বাইরে সর্বদা মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। কিন্তু গ্রামের অনেক দরিদ্র জনগোষ্ঠী আর্থিক সমস্যার কারণে বাজারে গিয়ে মাস্ক কিনে ব্যবহার করতে পারেন না। সংগঠনের কিশোরী সদস্যরা সাংগঠনিক উদ্যোগে গ্রামের দরিদ্র লোকদেরকে মাস্ক দিয়ে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ভয়ানক আকার ধারণ করায় নেত্রকোনা শহরে গিয়ে মাস্ক ক্রয় করতে তারা ভয় পায়। তাছাড়া পাবলিক পরিবহনে (অটো, রিক্সা) যাতায়াত ও জনসমাগমে গেলে করোনা ভাইরাস সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া বাজার থেকে কিনে বিতরণ করলে অনেক খরচ হবে।
তাই নিজেরা করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে এবং করোনাকালীন সময়ে নিজেরা সুস্থ থেকে সংকট মোকাবেলা ও জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নে সংগঠনের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় সকলে বাধ্যতামূলক মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়মিত ব্যবহারের। গ্রামের অনেকের হাতে টাকা না থাকায় তাদের অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও এ সময়ে মাস্ক কিনে ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার সংগঠনের সদস্যদের প্রায় সকলেই কিশোরী ও শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের হাতে তেমন কোন অর্থকড়ি নেই। কিন্তু সংগঠনের সদস্যরা এসময়ে ঘরে হাত গুটিয়ে বসে থাকার নয়। তাদের মনে অদম্য ইচ্ছে করোনা মোকাবেলায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর। কিশোরীরা তাদের গড়ে তোলা গ্রামের কিশোরী তথ্য কেন্দ্রে বসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় কি করা যায়, সে বিষয়ে ভাবতে থাকে। এমতাবস্থায় সেলাইয়ের কাজ জানা সংগঠনের চারজন কিশোরী সদস্য ভাবনার অবসানে এগিয়ে আসে। তারা নিজেরা মাস্ক তৈরি করে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজন কাপড়, সুচ ও সূতার। সংগঠনের একজন সদস্য তার নিজস্ব একটি সেলাই মেশিনে কাজে দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। সদস্য চাঁদনী আক্তার ও রাসেল মিয়া দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে পড়াশোনার খরচ ও সংসারে খরচ চালায়। তারা কাপড় পেলে মাস্ক তৈরি করে দেয়ার ইচ্ছার কথা জানায়।


সংগঠনের কিশোরীরা নিজেরা চাঁদা সংগ্রহ করে সেলাইয়ের কাজ জানা সদস্য চাদঁনী আক্তার ও রাসেল মিয়াকে প্রথমে ১০ গজ কাপড় কিনে দেয় মাস্ক তৈরির জন্য। সংগঠনের উদ্যোগে কিশোরী তথ্য কেন্দ্রে শুরু হয় মাস্ক তৈরির কাজ। ১০ জুন ২০২০ তারিখে সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ১০০ জন ব্যক্তিকে ১০০টি মাস্ক বিনামূল্যে দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এভাবে কিশোরী সংগঠনটির উদ্যোগে এবং সদস্য চাঁদনী আক্তার রাসেল মিয়ার সহায়তায় নিজ গ্রামের কিশোরী, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের জন্য ১০০০ মাস্ক তৈরি করেছে। এছাড়াও কিশোরী চাঁদনী আক্তার ও কিশোর রাসেল মিয়ার নিকট থেকে এলাকার অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ব্যক্তি ও পরিবারের লোকেরা প্রতিটি মাস্ক ৩০ টাকার বিনিময়ে কিনতে পারছেন। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নিকট মাস্ক বিক্রির টাকায় কাপড় কিনে সংগঠনের সদস্যরা আরও বেশি মাস্ক তৈরি করতে পারছে। তবে দরিদ্র ব্যক্তিদের তারা বিনামূল্যে এ পর্যন্ত ২০০টি মাস্ক বিতরণ করেছে। মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি তারা মাস্ক ব্যবহারের নিয়মাবলীও শিখিয়ে দেয়।
করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ফচিকা অগ্রযাত্রা কিশোরী সংগঠনের এ ধরণের উদ্যোগ এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে করেছে। এলাকাবাসী কিশোরীদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: