সাম্প্রতিক পোস্ট

ভাষার ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বড় হোক শিশুরা

নেত্রকোনা থেকে খাদিজা আক্তার লিটা
নেত্রকোনা জেলা রেলকলোনীর সবুজের সন্ধানে কিশোরী সংগঠনের উদ্যোগে এবং বারসিক’র সহযোগিতায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে এলাকার দলিত শিশুদের নিয়ে বাংলা বর্ণমালা লিখার প্রতিযোগিতার ও গল্প বলার আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ণমালা লিখার জন্য খাতা, কলম।


প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় রেলকলোনীর বসবাসরত ২০ জন দলিত শিশু, যাদের অনেকেই, করোনাকালিন সময় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়া এ শিশুদের স্কুলগামী করার পাশাপাশি নিজেদের মায়ের ভাষা ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। শিশুরা নিজেদের মতো করে সাদা কাগজে পেনসিল দিয়ে বর্ণ লিখে। অনেক দিন পর খাতা কলম হাতে পেয়ে খুশি হয়ে উঠে প্রতিটি শিশু।


বর্ণ লেখা প্রতিযোগিতার শেষে সংগঠনের সভা প্রধান স্বর্ণা রায় সহজ ভাষায় মাতৃভাষা দিবস তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন, কেন প্রতিবছর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হয়, মাতৃভাষা লিখা শিখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
মহান মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বা বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে রেলকলোনী কিশোরীর, কিশোরীদের মনে কোন ধরনের আগ্রহ নেই। প্রতিবছর একুশের ফেব্রয়ারির আগের রাতে কলনীর সাথে মগরা নদীর পাড়ঘেঁষা ছোট শহীদ মিনারে উচ্চস্বরে হিন্দি গান বাজানো হয়, দুপুর বেলা মজা করে রান্না করে খায় এলাকার কিশোররা। একুশে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস তাদের জানা নেই, তারা জানেনা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহীদ হয়েছিল বাংলার সাহসী ছেলেরা। তাদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাজপথ। তাদের এ ত্যাগের মর্যাদা দিতে গিয়ে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যে দিনটিকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে , বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এ দিনটি বর্তমানে পালন করা হচেছ।


মহান এ দিনে কথা রেলকলোনী শিশুদের শুনানোর দায়িত্ব কি কখনো কেউ নিয়েছিল? কেউ নিক বা না না নিক এ বছর রেলকলোনী থেকেই বড় হওয়া এক দল কিশোরী সে দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে। এ বছর থেকে শুরু করেছে দলিত শিশুদের বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও ভাষা শহীদদের গল্প বলার মার্ধমে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার কাজ। নিজেদের পড়া ফাঁকে ফাঁকে ঝড়ে পড়া শিশুদের বাংলা ভাষা বলা ও লিখা শিখাবে কিশোরীরা। উল্লেখ্য সংগঠনের সভা প্রধান স্বর্ণা রায় এ কলোনী থেকে প্রথম মেয়ে যিনি স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে।


পরিবার ও চারপাশের পরিবেশ থেকে গড়ে উঠে শিশুর মননশীলতা যা পরবর্তীতে সমাজের উপর প্রভাব ফেলে। পরিবার ও চার পাশের প্রতিবেশীয় ইতিবাচক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠা শিশুদের মধ্যে কোন ধরনের দেশ বা দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়না, যা পরবর্তীদের সমাজিক নানা সমস্যায় দেখা দেয় ।


আমাদের সমাজে বর্তমানে কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে এ ধরনের বঞ্চিত শিশুদের ভূমিকা কম নয়। ভাষার ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে শিশুরা বড় হলে আমাদের সমাজে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না। তাই আমরা চায় ভাষা ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হোক সকল শ্রেণীর শিশুরা। শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য তাদের মাঝে শিক্ষার পাশাপাশি দেশ প্রেম জাগ্রত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন নিতে হবে সবাইকে।
উল্লেখ্য, রেলকলোনী শিক্ষা, সুন্দর পরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্য দুর করে একটি বহুত্ববাদী সমাজ উন্নয়নে কাজ করছে সবুজের সন্ধানে কিশোরী সংগঠন। সংগঠনে সহযোগি সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বারসিক।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: