Posted in

নাটক মানুষকে শুদ্ধ ও সমাজকে মানবিক করতে সহায়তা করে

মানিকগঞ্জ থেকে মো: নজরুল ইসলাম ও সামায়েল হাসদা

‘বহুত্ববাদি সাংস্কৃতিক চর্চা করি, নারীবান্ধব সমাজ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে ধরে বারসিক’র আয়োজনে মানিকগঞ্জ বেউথা বাগানবাড়ী কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে সম্প্রতি দু’দিন ব্যপী নারীবান্ধব সমাজের জন্য বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিকমনা যুব সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নাট্য কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

IMG_20191031_143757
দুই দিনের কর্মশালায় আলোচনায় মানব সভ্যতার ইতিহাস ও আদিম সাম্যবাদী সমাজ, সভ্যতার ক্রমবিকাশ বিজ্ঞান ও ধর্মের দ্বান্দি¦কতা,ধর্মীয়-সামাজিক কুসংস্কার ও জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আলোচনায় হয় নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যম আত্মজিজ্ঞাসা ও উদ্ভাবনী খেলা, সংস্কৃতি ও নাটক, নাটকের ইতিহাস, নাটক কি, প্রাচ্যনাটক ও বাংলা নাটক, গ্রামীণ লোকায়ত যাত্রাপালা, সামাজিক নাটক, পথ নাটকের আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা, সংগঠন ও সাংগঠানিক কাঠামো কিভাবে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করে ইত্যাদি।

IMG_20191031_144327
নাট্য কর্মশালায় সমাপনী অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর এডহক কমিটির আহবায়ক এ্যাড. দীপক কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমীর জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দা সেলিনা সুলতানা, বিশেষ অতির্থি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর প্রশিক্ষক ও কর্মশালার সহায়ক শাকিল আহমেদ সনেট, ইয়ুথ গ্রীণ ক্লাবের জেলা সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান হৃদয়, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মশালার সহ-প্রশিক্ষক মেহেদি হাসান রিয়াদ প্রমুখ।

IMG_20191031_151830
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘আমরা আদিম যুগে যেমন অন্ধকারের যুগে ছিলাম সংস্কৃতি ও নাটক সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছে। সভ্যতার উন্নতি হয়েছে। মধ্যযুগটা ছিল সবচেয়ে ভালো যুগ। এ সময় সমাজতন্ত্রের উন্মেষের পাশাপাশি শিল্প সাহিত্য জগতে ব্যাপক বিপ্লব ঘটে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য পুঁজিবাদি এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে সারা দুনিয়াতেই প্রগতিবাদীদের ধস নেমেছে। ভাববাদীদের জয়জয়কার হয়েছে।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী এই অন্ধকার সমাজ পরিবর্তন করতে হলে এর অন্যতম হাতিয়ার হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ। সেটি ঘটাতে হলে গান, নাটক, কবিতাসহ বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানমনস্ক বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিমনা যুব সমাজ তৈরি করতে হবে। সেটি করতে পারলে সমাজে শান্তি আসবে, মানুষ শুদ্ধ হবে এবং সমাজ আরো মানবিক হবে বলে আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.