Posted in

‘আমাদের সবার ভালো থাকার জন্যই প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে’

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে অনন্যা আক্তার ও সঞ্জিতা কির্ত্তুনীয়া
‘পরিকল্পনায় অংশি হোন” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা সুরক্ষা দল ও সবুজ সংহতির আয়োজনে এবং বারসিক’র সহযোগিতায় বায়রা ইউনিয়নের সানাইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বুড়ি মেলার মাঠে প্রাণবৈচিত্র্য মেলার আয়োজন করা হয়।


উক্ত মেলায় কর্ম এলাকার দশটি গ্রামের শিশু কিশোর, কৃষক, কৃষাণী যুব সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগন ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মেলায় বৈচিত্র্যময় ফসলের স্থানীয় জাতের বীজ, অচাষকৃত উদ্ভিদ, নিরাপদ সবজি, বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ কৃত্রিম পুকুর ও ধান ক্ষেত প্রর্দশন করেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রথমে শিশুদের রং তুলিতে উপকারী পোকা ও প্রাণী, খাদ্য শৃখল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্রাংকনের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকল প্রাণের মধ্যকার আন্তঃনির্ভশীলতার সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করেন বারসিক প্রোগ্রাম সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান। এই সম্পর্কে বিশ্লষেণ করতে তিনি একটি কৃত্তিম পুকুর ও একটি ধান ক্ষেত ব্যবহার করেন। পুকুর ও ধান ক্ষেতের বিভিন্ন স্তরের যে সকল বৈচিত্র্যময় প্রাণ থাকে এবং একটার সাথে আরেকটার যে আন্তঃনির্ভশীলতার সম্পর্ক সেটা তুলে ধরেন তিনি।


এরপর মেলায় আগত স্থানীয় ও বিভিন্ন গ্রামের কৃষক কৃষাণীরা প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাণ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে তারা প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে বলে জানান। এছাড়া আগাছানাশক বন্ধে ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে মানববন্ধন করেছেন কৃষক কৃষাণী ও সমমনা ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন সানাইল গ্রামের কৃতি সন্তান ডাঃ কমল কান্তি বিশ^াস। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো থাকার জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্ম টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষিপ্রতিবেশকে ঠিক রাখতে হলে মাঠে, ঘাটে ও বসতবাড়িতে প্রাণের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সকল প্রাণ ভালো থাকলে মানুষ ও ভালো থাকতে পারবে।’


ডাঃ কমল কান্তি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার বাড়িতে একটি সবজি মাচায় সাদা মাছি পোকার আক্রমণ হয়। আমি খেয়াল করে দেখলাম বুলবুলি পাখি দুই তিন দিনের মধ্যেই সব মাছি পোকা খেয়ে ফেলেছে। কাজেই প্রকৃতিকে যদি প্রকৃত রাখতে পারি তাহলে রাসায়নিক বালাইনাশকের প্রয়োজন পড়েনা।’ সানাইল গ্রামে তার প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ একটি বাংলো বাড়ি রয়েছে, সেখানে একবার পরিদর্শন করার আমন্ত্রণ জানান এবং সকলকে প্রাণ প্রকৃতি সমৃদ্ধ বাড়ি তৈরীতে সচেষ্ট হতে বলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.